ঢাকা: শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শিশুপ্রহরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বইমেলার তৃতীয় দিন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী পাঠক ও দর্শনার্থীর আগমন এখনো চোখে পড়ার মতো হয়নি । তাই আশা নিয়ে মেলা জমে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন বিক্রেতারা। রমজানের মধ্য সময়ে ঈদের বাজারের সঙ্গে আগামী সপ্তাহেই বইমেলা পাঠকদের পদচারণায় মুখরিত হবে বলে প্রত্যাশা তাদের। তবে কেউ কেউ এখনো শুনাচ্ছেন হতাশার কথাও।
এদিন সরেজমিনে দেখা যায়, এখনো বইমেলা জমে না উঠলেও শিশু প্রহরে বই, পাপেট ও রঙতুলি নিয়ে উচ্ছ্বসিত শিশুরা । বাবা মায়ের হাত ধরে তারা কিনছে নানা রকমের রঙিন বই । ঘড়ির কাটার সাথে বেলা গড়ালেও লোক সমাগম তেমন লক্ষ্য করা যায়নি । তবে বিকেলে ও সন্ধ্যার পর মানুষের উপস্থিতি কিছুটা দেখা যায়। এদিকে এখনো কিছু স্টল তৈরির কাজ চলছে। তবে খুব দ্রুতই সেগুলোর কাজ শেষ হবে।
সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বইমেলায় এসে ভালো লাগল। ফেব্রুয়ারিতেই হবে কি না সন্দেহ ছিল। তবে এই ভালো লাগার ভেতরেও কিছুটা কষ্ট রইল। কারণ, এখনো মেলার স্টলগুলো সজ্জিত হয়ে পূর্ণ আমেজ লাভ করেনি।’ তিনি বলেন, ‘একুশে বইমেলা সাধারণত ফেব্রুয়ারির এক তারিখ হয়। সেটার ব্যত্যয় ঘটায় লোক সমাগম কমেছে। সেইসঙ্গে চলছে রমজানও।’
কিশোর ভুবন স্টলের দায়িত্বরত সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণত বইমেলা শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনগুলো জমে ওঠে। কিন্তু এ বছর আমরা ছুটির দিনেও তেমন কোনো পাঠক দেখছি না। তাছাড়া মেলার শিশুদের প্রধান আকর্ষণ থাকে সিসিমপুর। গতবছরের মতো এবছরও এই আয়োজন না থাকায় শিশুরাও তেমন আসছে না। কিছুদিন পর তো ঈদের আমেজ শুরু হয়ে যাবে। তাহলে মেলাটা জমবে কখন?’
পালক পাবলিশার্সের বিক্রয়কর্মী শাহাদত শুভ বলেন, ‘যেহেতু সবেমাত্র বইমেলা শুরু, তাই এই সপ্তাহে তেমন ভিড় নেই। তবে আশা করছি আগামী সপ্তাহে ছুটির দিনে সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম ঘটবে। কেননা, তার পর থেকে আবার ঈদের আমেজ লেগে যাবে। তখন লোক আসবে না। তাই আগামী সপ্তাহেই সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হবে বলে আশা করছি।’
শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা
এদিন সকাল ১০ টা ৩০ মিনিটে বইমেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শিশু—কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রথমিক বাছাই পর্ব। এতে ৩৪৭ জন (ক—শাখায় ৮২ জন, খ—শাখায় ১৮৫ জন এবং গ—শাখায় ৮১ জন) প্রতিযোগী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমি মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে ৭ মার্চ।
মূলমঞ্চ
বিকেল ৩ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: আহমদ রফিক শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ইসমাইল সাদী। আলোচনায় অংশ নেন মোস্তফা তারিকুল আহসান। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মনসুর মুসা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
বিকেল ৪ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন কাজী বুশরা আহমেদ তিথি, ইশরাত শিউলি, জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা এবং নাসিম আহমেদ। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সালাউদ্দিন আহমেদ, শহীদ কবীর পলাশ, ইয়াকুব আলী খান, নন্দিতা মন্ডল, অপর্ণা মজুমদার, নুসরাত জাহান জেরিন এবং মো. জাকির হোসেন আখের।
১ মার্চ যা থাকছে
রোববার (১ মার্চ) মেলা শুরু হবে দুপুর ২ টায় এবং শেষ হবে রাত ৯ টায়। বিকেল ৩ টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ: হামিদুজ্জামান খান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নাসিমুল খবির। আলোচনায় অংশ নেবেন আইভি জামান। সভাপতিত্ব করবেন লালারুখ সেলিম। বিকেল ৪ টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।