Thursday 26 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৬ সিটিতে ৬ প্রশাসক
ভোট আয়োজনে সরকারের দিকে তাকিয়ে ইসি!

নাজনীন লাকী স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৫ | আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৩১

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ফাইল ছবি

ঢাকা: ‎দেশের প্রধান ছয়টি সিটি করপোরেশনে অবশেষে আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা কমিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ এসব গুরুত্বপূর্ণ নগর সংস্থায় নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। এই নিয়োগের পরই প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি সিটি নির্বাচন অনেকদিন পিছিয়ে যাচ্ছে?

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘মেয়াদ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ ২৪ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গতবছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এই দুই সিটির মেয়াদ এরই মধ্যে পার হয়েছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এই দুই সিটির ভোট আয়োজনের তাগিদ দিয়ে ইসিকে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল।

অপরদিকে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মেয়রের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া, ২০২২ সালের ১৮ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন, ২০২৩ সালের ১২ জুন খুলনা সিটি নির্বাচন, একই বছরের ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন ও ২৫ মে গাজীপুর সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেগুলোর মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। এইসব সিটিতে নির্বাচন আয়োজনের জন্য এখনো সময় আছে।

গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতে আত্মগোপনে চলে যান বিভিন্ন সিটির মেয়ররা। আর অন্তর্বর্তী সরকার ১৯ আগস্ট সব সিটির মেয়র ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে। ওই সময় থেকেই প্রশাসক দিয়ে চলছিল বাংলাদেশের সিটি করপোরেশনগুলো। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির সরকার গঠনের পর সিটি করপোরেশনগুলোতে দলীয়ে নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

‎‎গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ছয় সিটি করপোরেশনে ছয় জনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- ‎ঢাকা দক্ষিণে মো. আব্দুস সালাম, ‎ঢাকা উত্তরে মো. শফিকুল ইসলাম খান, ‎খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ‎সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, ‎নারায়ণগঞ্জে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান ও‎ গাজীপুরে মো. শওকত হোসেন সরকার।

‎রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসকদের এই নিয়োগ মূলত আসন্ন নির্বাচনের একটি প্রাথমিক মহড়া। একদিকে জনসেবার মাধ্যমে জনগণের মন জয় করা, অন্যদিকে দলীয় সাংগঠনিক শক্তি পরীক্ষার একটি চ্যালেঞ্জ এখন এই নতুন প্রশাসকদের সামনে। এখন প্রশ্ন এই উদ্যোগের ফলে কি পিছিয়ে যাবে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন? নাকি আরও ত্বরান্বিত হবে নির্বাচন প্রক্রিয়া?

নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের চেয়ারে বসার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা মো. আব্দুস সালাম। ২৪ ফেব্রুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি জানান, সেবার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে আগামী নির্বাচনে তিনি মেয়র প্রার্থী হতে চান। ‎এর আগে, ডিএসসিসির নির্বাচনে মেয়রের দৌড়ে সামিল হওয়ার ঘোষণা দেন বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। ফলে তফসিল ঘোষণার আগেই ঢাকার রাজপথে নির্বাচনি উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

‎এদিকে রাজনৈতিক প্রশাসকদের নিয়োগকে ‘স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা’ হিসেবে দেখছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রশাসক নিয়োগের ফলে নাগরিক সেবা কিছুটা গতিশীল হলেও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোনো বিকল্প নেই।’ তিনি দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানান।

‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ‘সরকারের উচিত আইনের শাসন সমুন্নত রেখে সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী দ্রুত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। প্রশাসক ব্যবস্থা যেন দীর্ঘায়িত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

‎সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাসউদ বলেন, ‘আইন অনুযায়ী কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকার যখনই ক্লিয়ারেন্স দেবে, তখনই কমিশন ভোটের আয়োজন করবে। বলা যায়, সরকার থেকে যখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে তখনই আয়োজন করা হবে নির্বাচন।’

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের কাজই নির্বাচন করা। তাই কমিশন যেকোনো নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত। ‎তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসন, বগুড়া-৬ উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সভা শেষে সিটি নির্বাচনের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে।

‎সারাবাংলা/এনএল/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

নাজনীন লাকী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর