Thursday 01 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর
কনটেইনার, কার্গো, জাহাজ– সব খাতেই রেকর্ড প্রবৃদ্ধি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪২

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সদ্যসমাপ্ত ২০২৫ সালে কনটেইনার ওঠানামা ও পরিবহণ, কার্গো (পণ্য) পরিবহণ এবং আমদানি-রফতানি পণ্যবোঝাই জাহাজ পরিচালনা- সবক্ষেত্রে রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। কনটেইনারে ৪ শতাংশ এবং কার্গো ও জাহাজের ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বন্দর অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।

শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির কারণে অচলাবস্থা, বিভিন্ন সেবাখাতে মাশুল বাড়ানো নিয়ে মতবিরোধ, পরিবহণ ধর্মঘটসহ বিভিন্ন জটিলতার পরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নিয়ে বন্দরের কর্মকর্তারা বলছেন, ‘‘বন্দরের কর্মকাণ্ডকে ‘দৃশ্য-অদৃশ্য’ হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে পারা, ব্যবহারকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরবচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ড এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে।’’

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউস। ২০২৪ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউএস। কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪৪২ টিইইউস। প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

একই বছরে বন্দরে আমদানি-রফতানি কার্গো (পণ্য) হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫১ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন। ২০২৪ সালে হয়েছিল ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার ১৪ টন। বেড়েছে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন। প্রবৃদ্ধির হার ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সারাবাংলা

২০২৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানি পণ্য নিয়ে জেটিতে আসা এবং রফতানি পণ্য নিয়ে জেটি ছেড়ে যাওয়া জাহাজ পরিচালনা করেছে ৪ হাজার ২৭৩টি। ২০২৪ সালে করেছিল ৩ হাজার ৮৫৭টি। জাহাজ হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৪০৬টি, প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ।

শুধু গতবছর নয়, চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে এ পরিমাণ কনটেইনার, কার্গো ও জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড আর নেই।

২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর ও এর আওতাধীন কমলাপুর কনটেইনার ডিপো ও পানগাঁও নৌ টার্মিনাল দিয়ে আমদানি-রফতানি ও খালি মিলিয়ে কনটেইনার পরিবহণ হয় ৩০ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস। ২০২২ সালে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ ও ২০২১ সালে ৩২ লাখ ১৪ হাজার কনটেইনার পরিবহণ হয়।

এর আগে, ২০২০ সালে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭, ২০১৯ সালে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ১৮৭, ২০১৮ সালে ২৯ লাখ ৩ হাজার ৯৯৬ এবং ২০১৭ সালে ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ২২৩ কনটেইনার পরিবহণ করেছিল চট্টগ্রাম বন্দর।

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সারবাংলা

২০২৩ সালে ১২ কোটি ২ লাখ মেট্রিক টন কার্গো (পণ্য) পরিবহণ হয়। ২০২২ সালে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ মেট্রিক টন ও ২০২১ সালে পরিবহণ হয় ১১ কোটি ৬৬ লাখ মেট্রিক টন। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০১৯ সালে ১০ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন।

২০২৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর জাহাজ হ্যান্ডলিং করে ৪ হাজার ১০৩টি। ২০২২ সালে ৪ হাজার ৩৬১টি, ২০২১ সালে ৪ হাজার ৫৪টি, ২০২০ সালে ৩ হাজার ৭২৮টি এবং ২০১৯ সালে ছিল ৩ হাজার ৮০৭টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, ‘কার্গো ও কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে বেশকিছু আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে বেসরকারি অপারেটরের পরিবর্তে চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। সেখানে দেখা গেছে, তারা কনটেইনার হ্যান্ডলিং প্রায় ১১ শতাংশ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এটার প্রভাব সার্বিকভাবে পড়েছে। ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতাও আগের চেয়ে বেড়েছে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে বাল্ক কার্গোর কারণে। সেখানে একবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশেরও বেশি।’

বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধির কারণে বন্দরে জাহাজের ওয়েটিং টাইম বা গড় অবস্থানকাল কমে এসেছে, কখনও সেটা শূন্যের কোঠায় গিয়ে ঠেকেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৯ দিন, অক্টোবরে ১৮ দিন এবং নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ২৬ দিন করে জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য ছিল।

বিভিন্ন দাবিতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে চলতি বছরের ২৮ জুন থেকে দুইদিন চট্টগ্রাম কাস্টমসে সব ধরনের কাজ বন্ধ ছিল। শুল্কায়নের পর কাস্টমস নথি ছাড় না করায় ওইসময় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে কোনো কনটেইনার বের হওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে বেসরকারি ডিপো থেকে রফতানি পণ্য নিয়ে কনটেইনার বন্দরে প্রবেশও বন্ধ হয়ে যায়। তিনদিনের মাথায় কাস্টমস সচল হলেও বন্দরে অচলাবস্থা থেকে যায় আরও কয়েকদিন। এর ফলে বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার জট তৈরি হয়েছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর।

মাশুল বাড়ানোর পর গত অক্টোবরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সকল ধরনের আমদানি পণ্য পরিবহণ একযোগে বন্ধ করে দেয় পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। এতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্য বের হওয়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। রফতানি পণ্য বন্দরে প্রবেশেও ব্যাঘাত ঘটে। এ অচলাবস্থাও প্রায় দুইদিন অব্যাহত ছিল, যাতে বন্দরে প্রায় ৪৬ হাজার কনটেইনারের জট সৃষ্টি হয়।

বন্দর কর্মকর্তা ওমর ফারুক সারাবাংলাকে বলেন, ‘কাস্টমসের কলমবিরতি, বিভিন্ন ধর্মঘট, দেশের পরিবর্তনশীল নাজুক পরিস্থিতিতে বিভিন্ন লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বন্দরের উন্নত অপারেশনাল সক্ষমতার কারণে আমরা সেটা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। যেমন, ই-গেট পাস, কনটেইনার ট্র্যাকিং ও স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট সিস্টেম। এ তিনটি পদক্ষেপ বন্দরের অপারেশনার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন হয়েছে, বন্দর ব্যবহারকারীদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী নীতিমালা করা হয়েছে। এতে বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে।’

বিজ্ঞাপন

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমল
১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:২০

আরো

সম্পর্কিত খবর