ঢাকা: আপিল বিভাগে মামলা দাখিল ও এফিডেভিট সংক্রান্ত কার্যক্রমে জালিয়াতি প্রতিরোধ এবং বিচার শাখার নিরাপত্তা জোরদারে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এখন থেকে আপিল বিভাগের তালিকাভুক্ত সব অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডকে তাদের নমুনা স্বাক্ষর এবং অধীনস্থ বৈধ ক্লার্ক (মুহুরি)দের ছবি ও পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি রেজিস্ট্রিতে জমা দিতে হবে।
গত ৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আপিল বিভাগে মামলা দাখিল ও এফিডেভিট প্রক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডদের স্বাক্ষর যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ছিল। ফলে আদালতে জমা দেওয়া নথিতে থাকা স্বাক্ষর সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর প্রকৃত স্বাক্ষর কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছিল।
এ ছাড়া বিচার শাখার ফাইলিং সেকশনে অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের প্রবেশ ও অপ্রয়োজনীয় ভিড়ও প্রশাসনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ কার্ডধারী ক্লার্ক নন এমন ব্যক্তিরাও বিভিন্ন অজুহাতে সংবেদনশীল শাখায় প্রবেশ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মামলা, পিটিশন, কেভিয়েট ও অন্যান্য আবেদনে ব্যবহৃত অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডের স্বাক্ষর অবশ্যই রেজিস্ট্রিতে সংরক্ষিত নমুনা স্বাক্ষরের সঙ্গে হুবহু মিল থাকতে হবে।
একই সঙ্গে, আদালতের নথিপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুমোদিত ও বৈধ কার্ডধারী ক্লার্ক ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির আপিল বিভাগের ফাইলিং বা বিচার শাখায় প্রবেশ কিংবা মামলার নথিপত্রে কাজ করার সুযোগ থাকবে না।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ডদের নমুনা স্বাক্ষরের পাশাপাশি তাদের অধীনে কর্মরত তালিকাভুক্ত ক্লার্কদের নাম, ছবি এবং বৈধ পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি সরাসরি আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে মামলা দাখিল বা প্রত্যাহারের মতো অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে। পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং নথিপত্র সংরক্ষণ ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে।