Wednesday 08 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে সংসদে বিল পাস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৫০ | আপডেট: ৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১০

জুলাই গণঅভ্যুত্থান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা দিতে দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বিল পাস করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১তম দিনের কার্যক্রমে কণ্ঠভোটে এ বিল পাস হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

এই আইন পাসের ফলে গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা এবং আইনি কার্যধারা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের পথ প্রশস্ত হলো। পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট সকল অভিযোগ অবিলম্বে বাতিল করা হবে।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে এই অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো মামলা দায়ের বা কোনো প্রকার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তা আইনত বাধা বা বারিত হিসেবে গণ্য হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজপথের বিপ্লবীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো।

এ বিলে বলা হয়েছে ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্যকর হয়েছে বলিয়া গণ্য হবে এবং ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে বলবৎ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

বিলের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত অভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি। আইনের বিশেষ তফসিলে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ বলতে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত সকল কার্যাবলিকে বোঝানো হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে চিহ্নিত করে তা এই সুরক্ষার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

সংসদে পাস হওয়া এই আইনের অন্যতম শক্তিশালী দিক হলো এর শ্রেষ্ঠত্ব বা ওভাররাইডিং ক্ষমতা। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলিই প্রাধান্য পাবে। এর ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতীতে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা আইনি কার্যধারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।

একইসঙ্গে আইনের ৫ নম্বর ধারার বিধান সাপেক্ষে, অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনার জন্য অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে নতুন কোনো মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা আইনত নিষিদ্ধ বা বারিত করা হয়েছে। এই আইনি রক্ষাকবচ মূলত বিপ্লবীদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে আজীবনের জন্য মুক্তি প্রদান করল।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলা হয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে সর্বাত্মক সংগ্রাম করেছে, তা রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃত। ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধের সময় আত্মরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে আন্দোলনকারীরা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়েছে।

সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই সুরক্ষা প্রদান করা রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হলো, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বিলের মাধ্যমে এটিও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই প্রক্রিয়াগুলোতে ‘কমিশন’ হিসেবে প্রয়োজনীয় তদারকি ও ভূমিকা পালন করতে পারবে।

সারাবাংলা/এফএন/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর