ঢাকা: দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়ে দেওয়া হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে ৩ মাসের মধ্যে এ সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ১৮৫ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেছিলেন।
রায়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৬ এর সেই বিধান বাতিল করা হয়েছে, যেখানে অধস্তন আদালতে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (যেমন কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুরি) ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত ছিল।
ফলে এখন থেকে অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত দায়িত্ব সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকবে।
এছাড়া ২০১৭ সালে প্রণীত অধস্তন আদালতের শৃঙ্খলা বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূইয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সাতজন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন।
রিটকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর। ১৯৭২ সালের সংবিধানে এ ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকলেও ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনের মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির কাছে ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান বিধান কার্যকর হয়।
সর্বশেষ রায়ে আদালত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেটদের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে।