ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞ চালানোর অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই কার্যক্রম শেষ হয়।
বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। তিনি ট্রাইব্যুনালে জানান, কোন কোন আলামত কবে, কখন ও কোথা থেকে জব্দ করা হয়েছে এবং কীভাবে জয় ও পলকের ফোনালাপসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।
পরে আসামি পলকের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো এবং জয়ের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মনজুর আলম সাক্ষীকে জেরা করেন।
জেরায় তানভীর হাসান জোহা বলেন, মামলার সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এনটিএমসি তাদের নিজস্ব সার্ভার থেকে সরবরাহ করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়োগের আগে তিনি সরকারের আইসিটি বিভাগের অধীনে একটি প্রকল্পে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পলকের কণ্ঠসংক্রান্ত কোনো অডিও-ভিডিও বা মোবাইল ফোন সরাসরি জব্দ করা হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি নিজে তা জব্দ করেননি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের কল রেকর্ড জব্দ করা হয়েছে, যেখানে বি-পার্টি হিসেবে পলকের কণ্ঠ রয়েছে। এসব কণ্ঠের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় আইনজীবীর প্রশ্নে তানভীর হাসান জোহা জানান, তিনি কখনো ডিজিএফআই বা এসবিতে কর্মরত ছিলেন না।
জেরা শেষে মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১০ মার্চ দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, সুলতান মাহমুদ, গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।