ঢাকা: রামপুরায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় একজনকে গুলি ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হচ্ছে না। নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স জমা দেওয়ার আবেদন করায় রায় স্থগিত রাখা হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এ আবেদন করেন প্রসিকিউশন। শুনানিতে প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী জানান, মামলার গুরুত্বপূর্ণ নতুন ডিজিটাল এভিডেন্স আদালতে দাখিল করতে চান তারা। এ জন্য চার সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করা হয়।
তবে আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় ট্রাইব্যুনাল এ বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ না দিয়ে বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন। দুপুরে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মামলায় আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ এই তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
মামলায় আসামি পাঁচজন। তাদের মধ্যে গ্রেফতার আছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। অপর আসামিরা হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। পলাতক চারজনের পক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন লড়ছেন।
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, সাক্ষ্যপ্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিতে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সে কারণে তাদের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়। আসামিপক্ষ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বেকসুর খালাস দাবি করে।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই বছরের ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রাণ বাঁচাতে বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। পুলিশ তাকে অনুসরণ করে সেখানে যায়। ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকার সময় এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিনে বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।
সারাবাংলা/টিএম/এএ