দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৩ সদস্য নিহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় এ তথ্য জানায়।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ‘শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান একের পর এক ভারী হামলা চালায়’ নাবাতিয়েহ শহরে। এর একটি হামলা শহরের সরকারি কমপ্লেক্সের আশপাশে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কার্যালয়ে আঘাত হানে।
ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির এক আলোকচিত্রী জানান, হামলার পর এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে এবং কয়েক ঘণ্টা পরও আগুন জ্বলতে থাকে।
এই হামলা এমন সময়ে হলো, যখন লেবানন সরকার আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২৪ সালের মার্চের শুরু থেকে চলমান সংঘাতে লেবাননে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির সরকারি সূত্রের দাবি।
লেবাননের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রথম বৈঠক হবে। সেখানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং পরবর্তী আলোচনার সূচনা নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রেসিডেন্সির বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটনে থাকা লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননবিষয়ক রাষ্ট্রদূতের মধ্যে ফোনালাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
লেবানন সরকার যুদ্ধ শুরুর পর হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার ঘোষণা দিলেও সংগঠনটি সরকারের ভেতরে ও সংসদে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছে এবং এই আলোচনার বিরোধিতা করছে।
হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাইম কাসেম বলেছেন, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা স্থল অভিযান চালাতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, “প্রতিরোধ শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত চলবে।”