ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত খুব দ্রুতই শেষ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তার বেশিরভাগ সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বুদাপেস্টে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ‘খুব শিগগিরই এই যুদ্ধ শেষ হবে।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো প্রায় পূরণ হয়েছে, যদিও ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে এখনও কিছু কার্যক্রম বাকি রয়েছে।
ভ্যান্স আরও জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন, তা শেষ হওয়ার আগেই “প্রচুর আলোচনা ও দরকষাকষি” চলছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান না এলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হবে। এর মধ্যে অনেক আলোচনা হবে এবং আমরা একটি ভালো সমাধানের আশা করছি।’
একই সময়ে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে লক্ষ্য করে আরও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’। এর আগে তিনি ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে হামলার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
ট্রাম্পের দেওয়া আলটিমেটাম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন রেল ও সড়ক সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়েছে। এতে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
পাল্টা জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাকসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। এতে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে।