ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের একজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সিবিএস নিউজের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএসকে জানিয়েছে, একজন ক্রু সদস্যকে মার্কিন বাহিনী উদ্ধার করেছে।
যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ইরানের আকাশে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
এদিকে বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের খুঁজতে মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে পাঠায়। তবে, পাইলটদের উদ্ধার করতে যাওয়া ওই মার্কিন হেলিকপ্টারও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি। মেহর নিউজ এজেন্সির দাবি অনুযায়ী, উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারটি লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে সেটিও ভূপাতিত হয়।
অন্যদিকে ইরানের আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত নিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ তার এক্স অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যঙ্গ করে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ওই পোস্টে ঘালিবাফ লিখেছেন, ‘‘ইরানকে টানা ৩৭ বার পরাজিত করার পর, তারা যে ‘কোনো কৌশলহীন চমৎকার যুদ্ধ’ শুরু করেছিল, তা এখন ‘রেজিম পরিবর্তন’ থেকে নেমে এসে দাঁড়িয়েছে—‘এই! কেউ কি আমাদের পাইলটদের খুঁজে দিতে পারবেন? প্লিজ?’’
এর আগে, গত ৩১ মার্চ ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে ইতোমধ্যে ‘রেজিম পরিবর্তন’ হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব ‘কম উগ্র’ ও বেশি ‘যৌক্তিক’।
ঘালিবাফ ব্যঙ্গ করে আরও লিখেছেন, ‘ওয়াও। কী অসাধারণ অগ্রগতি। একেবারে প্রতিভাবান।’
সম্প্রতি তার অ্যাকাউন্ট বেশ সক্রিয়, যেখানে মাঝেমধ্যে মিমও পোস্ট করা হচ্ছে। সর্বশেষ তাকে ১৭ মার্চ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা গেছে।
এই সংঘাতে এটিই প্রথম ইরানের আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। এর আগে যুদ্ধের শুরুতে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলে (‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’) তিনটি এফ-১৫ই বিমান ভূপাতিত হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত এটি এমন সময় ঘটল যখন ট্রাম্প ও তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কার্যত এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। হেগসেথ ও সামরিক কমান্ডাররা “আকাশে আধিপত্য” এবং ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা দুর্বল হয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন। ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন, ইরান তার আকাশে উড়ন্ত মার্কিন বিমানের বিরুদ্ধে “কিছুই করতে পারবে না”। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ইরান এখনও সীমিত ও অনেক কম শক্তি নিয়ে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা করার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।