ঢাকা: নতুন অবস্থায় যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনই চমৎকার গতিতে চলে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ফাইল আর অ্যাপের চাপে ফোন ধীরগতির বা স্লো হয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনেকেই এই পরিস্থিতিতে বিরক্ত হয়ে নতুন ফোন কেনার কথা ভাবেন। কিন্তু পকেটের টাকা খরচ করার আগে মাত্র কয়েকটি সহজ কাজ করলেই আপনার বর্তমান ফোনটির গতি আগের মতো ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
আসুন জেনে নেই স্মার্টফোনের গতি বাড়ানোর কিছু কার্যকরী উপায়:
স্টোরেজ খালি করুন: ফোনের সেটিংস থেকে ‘স্টোরেজ’ বা ‘ডিভাইস কেয়ার’ অপশনে গিয়ে নিয়মিত চেক করুন। কোন ফাইল বা অ্যাপ কতটা জায়গা দখল করে আছে তা দেখে নিন। মনে রাখবেন, ফোনে যত বেশি খালি জায়গা থাকবে, প্রসেসর তত দ্রুত কাজ করতে পারবে।
অ্যাপের ক্যাশ (Cache) মেমোরি পরিষ্কার: নিয়মিত ব্যবহারের ফলে প্রতিটি অ্যাপই ফোনে কিছু অস্থায়ী ফাইল বা ক্যাশ জমা করে। ফোনের সেটিংসের ‘অ্যাপস’ অপশনে গিয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপগুলোর ‘ক্লিয়ার ক্যাশ’ করে দিন। এতে আপনার ব্যক্তিগত কোনো ডেটা বা ফাইল কাটবে না, কিন্তু ফোন বেশ হালকা হবে।
ডুপ্লিকেট ও অপ্রয়োজনীয় ফাইল ডিলিট: হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে আসা একই ছবি বা ভিডিও অনেক সময় ডুপ্লিকেট হয়ে ফোনের মেমোরি নষ্ট করে। তাই ফোনের ফাইল ম্যানেজার ঘেঁটে অপ্রয়োজনীয় বড় ভিডিও, ডুপ্লিকেট ছবি ও অদরকারি ডকুমেন্ট নিয়মিত মুছে ফেলার অভ্যাস করুন।
অব্যবহৃত অ্যাপ আনইনস্টল করুন: অনেক অ্যাপ আমরা শখের বশে নামালেও মাসের পর মাস তা ওপেন করা হয় না। এই অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে সচল থেকে ফোনের র্যাম ও ব্যাটারি দুটোই সাবাড় করে। তাই যেসব অ্যাপের প্রয়োজন নেই, সেগুলোকে এখনই আনইনস্টল করে দিন।
বিশ্বস্ত ক্লিনিং অ্যাপের সাহায্য নিন: ম্যানুয়ালি সব জাঙ্ক ফাইল গোছানো ঝামেলার মনে হলে গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘ফাইলস বাই গুগল’-এর মতো নির্ভরযোগ্য ক্লিনিং অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। তবে জাদুকরী গতির লোভ দেখানো অজানা বা ক্ষতিকারক কোনো থার্ড-পার্টি অ্যাপ ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকুন।
সফটওয়্যার ও অ্যাপস আপডেট রাখা: ডেভলপাররা নিয়মিত আপডেটের মাধ্যমে অ্যাপ ও ফোনের সিস্টেমের বিভিন্ন ত্রুটি (বাগ) সংশোধন করেন। তাই ফোনের সেটিংসে গিয়ে সিস্টেম আপডেট এবং প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপগুলো সবসময় লেটেস্ট সংস্করণে আপডেট রাখুন। এতে ফোনের কর্মক্ষমতা বাড়ে।
নিয়মিত ফোন রিস্টার্ট করা: কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মতোই স্মার্টফোনেরও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। সপ্তাহে অন্তত দুই-তিনবার ফোন রিস্টার্ট বা বন্ধ করে চালু করলে ব্যাকগ্রাউন্ডের সব অপ্রয়োজনীয় প্রসেস পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং র্যাম নতুন করে কাজ শুরু করার শক্তি পায়।
ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যাপ বন্ধ রাখা: একসাথে অনেকগুলো অ্যাপ ওপেন করে কাজ করার পর আমরা অনেকেই তা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে মিনিমাইজ করে রেখে দিই। কাজ শেষ হওয়া মাত্রই রিসেন্ট অ্যাপ মেন্যু থেকে ব্যাকগ্রাউন্ডের অ্যাপগুলো সোয়াইপ করে বন্ধ করে দিন, এতে প্রসেসরের ওপর চাপ কমবে।