ঢাকা: অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির বিরুদ্ধে নজরদারি আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নতুন করে প্রায় ১৪ হাজার মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এরইমধ্যে এসব অ্যাকাউন্ট স্থগিত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিএফআইইউর দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত এক মাসে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে প্রায় ১০ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও প্রায় ১৪ হাজার অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্টও পর্যায়ক্রমে ফ্রিজ করা হচ্ছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে দ্রুত লেনদেনের সুযোগ থাকায় অপরাধচক্রগুলো এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও ডিজিটাল হুন্ডির অর্থ স্থানান্তর করছে। অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ায় অপরাধীরা একাধিক পরিচয়ে বা ভিন্ন কৌশলে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে।
বিএফআইইউর ওই কর্মকর্তা বলেন, অপরাধচক্রের মূল হোতাদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব ব্যক্তির এমএফএস অ্যাকাউন্ট জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ফ্রিজ করা হচ্ছে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে ভবিষ্যতে নতুন কোনো এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে গত ২৫ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৫৫ হাজার এমএফএস অ্যাকাউন্টের লেনদেন স্থগিত বা ফ্রিজ করেছে বিএফআইইউ। নতুন করে আরও ১৪ হাজার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে স্থগিত হওয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন বিএফআইইউ সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন, ডিজিটাল হুন্ডি এবং অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়িয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকার চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সাইবার সিকিউরিটি আইন, ২০২৬ জারি করে। আইনের ২০ ধারায় অনলাইন জুয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় সাইবার স্পেসে জুয়ার জন্য ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম তৈরি বা পরিচালনা করা, অনলাইন জুয়ায় অংশ নেওয়া, এ ধরনের কার্যক্রমে সহায়তা বা উৎসাহ দেওয়া, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার করা কিংবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়া–সংশ্লিষ্ট প্রচারণা ও বিপণনে যুক্ত থাকাও দণ্ডনীয় অপরাধ।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করাই নয়, অপরাধচক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা এবং অবৈধ অর্থের প্রবাহ বন্ধ করা গেলে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রাহক যাচাই (কেওয়াইসি) ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং সন্দেহজনক লেনদেন দ্রুত শনাক্তের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।