Friday 20 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মসলার দাম আকাশচুম্বী, তবুও ক্রেতাদের ভিড়

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২০ মার্চ ২০২৬ ১২:২২

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরের আর মাত্র এক দিন বাকি। ঈদের আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়ে মুখর ও জমজমাট। নানা ধরনের বাদাম ও মসলা জাতীয় পণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পণ্যের দামও বেড়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর কাপ্তান বাজার, রায়সাহেব বাজার ও নয়াবাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত মানুষের ভিড়ে বাজারগুলো সরগরম। তবে এবার বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বাদাম, কিসমিস, এলাচ ও আলুবোখর।

ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে কাঠবাদাম প্রতি কেজি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হতো, শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। রোস্টেড কাজুবাদাম ১৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০০ টাকায়, আর কাঁচা কাজুবাদাম ১২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেস্তাবাদামও ৪০০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৪৫০০ টাকায় উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

কিসমিসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র। মানভেদে প্রতি কেজি ৮৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার আগে ছিল ৬৮০ থেকে ৯৮০ টাকা। আলুবোখরার দাম আরও বেশি বেড়েছে; ৬৫০ টাকা থেকে লাফিয়ে এখন ১১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি। যা অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

এ ছাড়া, খুরমা ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০-৩০০ টাকায় পৌঁছেছে। দেশি চিনাবাদাম ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬০ টাকা কেজি। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে এলাচের। রোজার আগে প্রতি কেজি ৩৬০০ থেকে ৪২০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা বেড়ে ৪৬০০ থেকে ৫৮০০ টাকায় উঠেছে।

দারুচিনি ৪৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৫২০ টাকায় এবং জাফরান প্রতি গ্রাম ২৫০-২৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদে সেমাই, পোলাওসহ নানা ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিতে এসব উপকরণের প্রয়োজন হয়। তাই দাম বাড়লেও অনেকেই আগেভাগে কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। তবে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করছেন অনেকে।

কাপ্তান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। রোজার ঈদে যেমন বাদাম, কিসমিস ও আলুবোখরার দাম বাড়ে, কোরবানির ঈদে আবার অন্য পণ্যের দাম বাড়ে। এই অস্বাভাবিক দাম বাড়া সবার চোখে পড়লেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চমূল্য এবং আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কাপ্তান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, গত এক মাস ধরেই দাম বাড়তির দিকে এবং ঈদের আগে তা কমার সম্ভাবনা নেই।

কাপ্তান বাজারের সুমাইয়া স্টোরের আলামিন বলেন, ডলারে দাম বেশি; আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আমদানি কম কিন্তু চাহিদা বেশি। তাই গত একমাস ধরে বাড়তি দাম চলছে। আগামী ঈদের আগে কমার সম্ভাবনা খুবই কম। কাঠ-চিনা-পেস্তা বাদাম কিসমিস ও এলাচের দাম বেশি বেড়েছে। চাহিদাও অনেক বেশি।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী আলি আশরাফ বলেন, প্রতিবছর ঈদের আগে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। পাইকারি বাজারেই দাম বাড়ে, ফলে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

রায়সাহেব বাজারের এক দোকানি বলেন, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেমাই রান্নায় বিভিন্ন ধরনের বাদাম ব্যবহার করা হয়। তাই ঈদের আগে এসব পণ্যের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে দামে এবং দোকানে ক্রেতার ভিড়েও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের মসলার বাজার এখন ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার বড় অংশ আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত বছরের পর থেকেই মসলার দাম বাড়তি রয়েছে, যা এখনও কমেনি।

এদিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জানিয়েছে, ঈদকে সামনে রেখে যাতে কেউ অতিরিক্ত দাম নিতে না পারে, সে জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজার ও ডলারের দামের প্রভাব দেশের বাজারে পড়বেই। তবে অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার কারণে যাতে দাম না বাড়ে, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।

পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের অস্বাভাবিক ব্যবধান খতিয়ে দেখতে ব্যবসায়ী, প্রশাসন ও পেশাজীবীদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সারাবাংলা/একে/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর