ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের অস্থিতিশীলতার জেরে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরব থেকে তেল আমদানি করবে সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ও গ্যাসোলিন ২৫ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করা হবে। এতে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।
রোববার (১৫ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল’-এর কাছ থেকে এই জ্বালানি কেনা হচ্ছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি মাসে জ্বালানির যোগানে ১৭টি জাহাজের এলসি খোলা হয়। এর মধ্যে দেশে এসেছে মাত্র ৪টি এলসির জ্বালানি। পাশাপাশি ৬টি এলসির জ্বালানি এখনো অপেক্ষমাণ। এছাড়াও নিশ্চয়তা মেলেনি ৭টি এলসি সরবরাহের।
অন্যদিকে আগামী এপ্রিলে জ্বালানির যোগানে ১৫টি জাহাজের এলসি খোলা হয়েছে। যা থেকে ১৩টি পার্সেল সরবরাহের সম্মতি পাওয়া গেলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৩টি জাহাজের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, বিদ্যমান এই সংকট নিরসনে সরকার প্রতিবেশী দেশ ভারত, চীন ও জাপানের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে দ্রুত সরবরাহের প্রয়োজন পড়ায় মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে সৌদি প্রিন্সের মালিকানাধীন কোম্পানি পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনালকে চূড়ান্ত করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সংকট নিরসনে দেশীয় কূপ খননের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন যোগানে জোর দিচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে এই খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ নিশ্চিত করা হবে বলেও জানা গেছে।