গাইবান্ধা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সারাদেশের মতো গাইবান্ধাতেও জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে চাহিদার তুলনায় কম সরবরাহ থাকায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, বাস ও ট্রাকচালকেরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) গাইবান্ধা শহরের চারটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তেলের জন্য মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় অনেক পাম্পে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকেরা।
এদিকে, শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দূরপাল্লার যাত্রায় বের হওয়া অনেক চালক বিপাকে পড়েছেন।
মোটরসাইকেল চালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকাল থেকে তিনটি পাম্পে ঘুরে মাত্র তিন লিটার তেল পেয়েছি। কোথাও ১০০ বা ২০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না। এত কম তেলে দূরে যাওয়া সম্ভব নয়।’
আরেক বাইকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার বাইক চালাতে হয়, কিন্তু বৃহস্পতিবার মাত্র ২০০ টাকার তেল পেয়েছি।’
এদিকে বাস ও ট্রাকের জন্য ব্যবহৃত ডিজেলেরও সংকট দেখা দিয়েছে। কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার করে ডিজেল দেওয়া হলেও অনেক স্টেশনে সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ চালকদের।
পলাশবাড়ীর মাঠেরহাট এলাকার রূপ ফিলিং স্টেশনে তেল কিনতে আসা একটি কোম্পানির কাভার্ডভ্যান চালক আব্দুল কাদের বলেন, ‘ডিজেল না পেলে ট্রাক চালানো সম্ভব নয়। পণ্য নিয়ে দূরে যেতে হয়। কিন্তু এখন পাম্পে গিয়ে শুনতে হচ্ছে তেল নেই বা অল্প দেওয়া হবে। এতে পরিবহণ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
আরেক ট্রাকচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দু’টোই বাড়ছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পণ্য পরিবহনে সমস্যা বাড়বে।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা শহরের মেসার্স আর রহমান ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান জানান, তাদের স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় সাত হাজার লিটার জ্বালানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমানে মাত্র তিন হাজার লিটার তেল পাওয়া যাচ্ছে। রিজার্ভ গ্রাহকদের তেল দেওয়ার পর অন্যদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।