Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার হবে’

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
৪ আগস্ট ২০২৬ ২৩:৩২

ইউজিসি কার্যালয়ে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে চীনা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়াররম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি একটি বিদেশি বা আন্তর্জাতিক ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ইউজিসি কার্যালয়ে ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এবং চীনের জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, বর্তমানে দেশের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার রয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে মোট ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ বাস্তবতায় ভাষাগত দক্ষতা অপরিহার্য। ভাষা যেন সহযোগিতার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা না হয়, সে লক্ষ্যেই আমরা চীনা ভাষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’

ইউজিসি চেয়াররম্যান বলেন, ‘দেশে চীনা ভাষা শেখানোর জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষক ও প্রশিক্ষক নেই। এ ক্ষেত্রে চীন সহযোগিতা করলে বাংলাদেশের শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি প্রশিক্ষকদের চীনে পাঠিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও বাংলা ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই দেশের শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে।’

সভায় বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, স্নাতকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা এবং পাঁচ বছর মেয়ারদি উচ্চশিক্ষা রূপান্তর কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে ইন্টার্নশিপ ও বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে যৌথ সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

চীনা প্রতিনিধিদল জানায়, তাদের গ্লোবাল টিচার্স ট্রেনিং প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশের শিক্ষকদের ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়ার হবে। এ ছাড়া জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল চাইনিজ ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন সেন্টারের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ারর দেশগুলোর জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনা প্রতিনিধিদলে ছিলেন বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের কালচার কাউন্সেলর লি শাওফেং, কালচারাল সেকশনের থার্ড সেক্রেটারি শিয়ার দাওজিং, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কনফুসিয়ারস ইনস্টিটিউটের পরিচালক মা শিয়াওইয়ারন, চীনের জিয়াংসি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় বিভাগের পরিচালক শেন গুইহুয়ার, স্কুল অব সিভিল ইঞ্জিনিয়াররিংয়ের ডেপুটি ডিন টং ঝিনেং এবং সহযোগী অধ্যাপক ঝৌ শিয়ারওটিং।

সভায় ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল- মামুন, সচিব ড. ফখরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের পরিচালক ড. সুলতান মাহমুদ ভূঁইয়ারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/কেকে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর