Tuesday 14 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জাবিতে বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ, শোভাযাত্রায় মুখর ক্যাম্পাস

জাবি করেসপন্ডেন্ট
১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২১:৫৭

বৈশাখী শোভাযাত্রা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

জাবি: ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। বৈশাখী শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎসবমুখর ছিল ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন কলা ও মানবিক অনুষদ চত্বরে মৃৎ মঞ্চে বর্ষবরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। উদ্বোধনের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা।

শোভাযাত্রাটি পুরাতন কলা ভবন প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির প্রতীকি উপকরণ। রঙিন মুখোশ, ব্যানার ও মোটিফে তুলে ধরা হয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমসাময়িক নানা বার্তা।

বিজ্ঞাপন

শোভাযাত্রার উদ্বোধনী বক্তব্যে উপাচার্য ড. কামরুল আহসান বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত এবং এ বছর নববর্ষের আয়োজনে বৈচিত্র্য বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে অনন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য শুধু দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি নয়, বরং নৈতিকভাবে আলোকিত মানুষ গড়ে তোলা।’

তিনি আরও বলেন, ‘চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে আমরা বিগত বছরের দুঃখ-কষ্ট পেছনে ফেলে ভালোকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। নতুন বছরে আমাদের অঙ্গীকার হোক ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা।’

জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘প্রতিবছরের ন্যায় এবারও সাংস্কৃতিক রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মহা ধুমধামের সাথে নববর্ষ উদযাপন হবে। আমরা ইতোমধ্যে অধিকাংশ আয়োজন শেষ করে ফেলেছি। এবার নববর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। আশা করি, প্রতিটি প্রোগ্রাম শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে উপভোগ করবে।’

শোভাযাত্রায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

শোভাযাত্রা শেষে উপাচার্য টিএসসি চত্বরে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে জাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।

বিকেলে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র এবং জাকসুর সমন্বয়ে সেলিম আল-দীন মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৮টায় উপাচার্য তার বাসভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’ গান পরিবেশিত হয় এবং অতিথিদের মাঝে পরিবেশন করা হয় জিলাপি, সন্দেশ, কদমা, তরমুজ, আমের শরবত, বাতাসা, মুড়ি ও খৈসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও হল সংসদগুলোর উদ্যোগে পান্তা-ইলিশ, হালখাতা, মিষ্টিমুখ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়।