জাবি: জ্বালানি সংকটের কারণ দেখিয়ে সারা দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
মানববন্ধনে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি অদ্রি অংকুর বলেন, ‘করোনাকালীন আমরা দেখেছি অনলাইনে ক্লাসের কারণে প্রান্তিক ও গরিব শিক্ষার্থীরা কতটা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। শিক্ষার এই ভয়াবহ ক্ষতি জেনেও মন্ত্রণালয় কেবল কাগজে-কলমে একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। শিল্পকারখানা বা সরকারি অফিসগুলোতে এসির যথেচ্ছ ব্যবহার ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ না করে, যেসব শিক্ষার্থী হেঁটে বা রিকশায় স্কুলে যায়, তাদের ক্লাস অনলাইনে নেওয়া কতটা যৌক্তিক?’
তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংকট একটি কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা। এর সমাধান হিসেবে সবার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।সরকারের কাছে আহ্বান দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত বাতিল করে যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’
সংগঠনটির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইমরান হাসান শুভ আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের কারণে বিশ্ব তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। পত্রপত্রিকায় খবর আসছে, আমাদের হাতে মাত্র ১০ থেকে ১৪ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। অথচ জাতীয় সংসদে এই সংকট মোকাবিলার কোনো কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না পরিবর্তে জনগণের সামনে মূলা ঝোলানোর মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে নেওয়ার নাটক সাজানো হচ্ছে।’
ইমরান হাসান আরও বলেন, অনলাইনে ক্লাস নিলে বাস্তবে কতটুকু জ্বালানি সাশ্রয় হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট হিসাব সরকার দিতে পারেনি। দেশে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থীর হাতে স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট নেই। তাদের এই অনলাইন ক্লাসের দিকে ঠেলে দিলে আবারও লাখ লাখ শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়বে।
ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সদস্য সিয়াম মাহমুদ বলেন, “রাষ্ট্রের বড় বড় প্রকল্পে এবং সরকারি অফিসে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় হয়, তার দায় কেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা নেবে? অনলাইন ক্লাস শিক্ষার্থীদের মননশীল শিক্ষাচর্চার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আমরা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
জ্বালানি সংকট নিরসনের সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরি না করে কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করাকে শিক্ষাজীবনের ওপর ‘বড় আঘাত’ বলে উল্লেখ করেছেন মানববন্ধনকারীরা। তারা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংকট নিরসনে অবিলম্বে স্পষ্ট ও কার্যকর কৌশল জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে ব্যাহত করে এমন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত দেশের ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।