কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়া রেলস্টেশন এলাকায় রেলওয়ের অধিগ্রহণ করা বিপুল পরিমাণ জমি দখল করে সেখানে ভাঁড়ারঘর, গবাদিপশুর খামার ও মাছের চাষ চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রেলের জমিতে স্কুলের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে একাধিক কক্ষ ভাড়া দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের অধীন চকরিয়া রেলস্টেশন উদ্বোধনের পর থেকেই বিভিন্ন স্থানে রেলওয়ের অধিগ্রহণ করা জমি বেদখলের ঘটনা ঘটছে। মৌজা মূল্যের প্রায় দেড়গুণ দামে অধিগ্রহণ করা এসব জমিতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। তবে দখল ঠেকাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাহারবিল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে চকরিয়া-মহেশখালী সড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া রেললাইনের কালভার্টের উত্তর-পশ্চিম পাশে কয়েকটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। রেলস্টেশনের পশ্চিম পাশে প্রায় এক একর জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে গবাদিপশুর খামার। রেললাইন নির্মাণের সময় খনন করা একটি বড় পুকুর দখলে রেখে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাহারবিল এলাকার বাসিন্দা রেজাউল করিম ও মাহমুদুল করিম নামে দুই ভাই রেলওয়ের জমি দখলে রেখে সেখানে গবাদিপশু পালন ও মাছের খামার পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, তারা স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রেলের জমি দখলে রেখেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রেললাইন নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের সঙ্গে যোগসাজশ করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র রেলের জমিতে নির্মিত পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর দখলে নেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ব্যবহৃত একটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর স্ক্র্যাপ হিসেবে তিন মাসের মধ্যে ভেঙে নেওয়ার শর্তে স্থানীয় মাহমুদুল করিম কিনে নেন। তবে ঘরটি ভেঙে না নিয়ে সেখানে ‘নব কিশলয় স্কুল’ নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ১১টি কক্ষ ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া জমির অবশিষ্ট অংশে গবাদিপশুর খামার গড়ে তোলা হয়েছে এবং খনন করা পুকুরে মাছ চাষ করা হচ্ছে। মাছের খামার পাহারার জন্য সেখানে আরও একটি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকার রেলের জমি দখল করে সেখানে অপরাধীদের আস্তানাও গড়ে উঠেছে, যেখান থেকে চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে চকরিয়া উপজেলার সাহারবিল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের দায়িত্বে ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপ। নির্মাণকাজের সময় সাহারবিল মৌজায় রেলওয়ের অধিগ্রহণ করা প্রায় এক একর জমিতে তারা একটি বেইস ক্যাম্প স্থাপন করে। সেখানে এল-আকৃতির একটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয় এবং মাটি নেওয়ার জন্য একটি বড় পুকুর খনন করা হয়।
রেললাইন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর গত বছরের আগস্টে তমা গ্রুপ এলাকা ত্যাগ করলেও তাদের নির্মিত স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, তমা গ্রুপের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. রাসেল জামান ও আরেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফ স্থানীয় দখলদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ওই বেইস ক্যাম্পের স্থাপনাগুলো দখলে নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।