Monday 09 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রশক্তির বিরুদ্ধে

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
৯ মার্চ ২০২৬ ১৪:১৭ | আপডেট: ৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেল।

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ’ সন্দেহে কয়েক দফায় মেরে পুলিশের হাতে সোর্পদ করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে সেহরির সময় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী রাহিদ খান পাভেল অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি বুয়েটের কাজী নজরুল ইসলাম হলে সেহরি খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে ছাত্রশক্তির হাসিব, শুভ, সাইফুল্লাহ, মহিউদ্দিন ও আবরারও খাচ্ছিল। তাদের নেতৃত্বে প্রায় ২০-২৫ জন আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা মারধর করেছে। আমার দোষ থাকলে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হোক; আমি তাদেরও বলেছি। কিন্তু তারা আমার কোনো কথা শোনেনি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘পরে সেখান থেকে মেরে আমাকে পলাশীতে এনেও মারে। আবার সেখান থেকে বাইকে করে নিয়ে এসে ভিসি চত্বরে আমাকে কয়েকজন কিল-ঘুষি মারে। পরে, আমার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে শাহবাগ থানায় ফেলে দিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ আমাকে আটক করে। তারা আমাকে ছাত্রলীগ বলে পিটায়। আমি কখনো কোনো সংগঠনে ছিলাম না। আমার কোন পদ নেই।’

এখনো পর্যন্ত পাভেলের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলাম, সর্দার নাদিম মোহাম্মদ শুভ, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও আবরারসহ আরও বেশ কয়েকজন।

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিব আল ইসলামকে ফোন দেওয়া হলে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানার তদন্ত পরিদর্শক আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজকে সেহরির সময় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাকে পুলিশের হাতে সোর্পদ করে। এখন সে আমাদের হেফাজতে আছে। তার শারীরিক অবস্থা খারাপ এ জন্য ঢাকা মেডিকেল চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে আগে সুস্থ হোক, তারপর আমরা তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিব।’

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিবে কিনা জানতে চাইলে প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের কাছে এ নিয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এ ঘটনা জানার পর সেই ছেলেকে মেডিকেল ট্রিটমেন্টের জন্য শাহবাগ থানাকে রিকোয়েস্ট করেছি। এখন তাকে মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দেওয়া হচ্ছে। আমরা তার খোঁজখবর রাখছি। আর এ বিষয়ে অভিযোগ আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।’

সারাবাংলা/কেকে/এইচআই
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর