Saturday 28 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যশোরে ১০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৪ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৫

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছে ব্যবসায়ীরা।

যশোর: ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলে দেওয়ার নাম করে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ফারজানা ইয়াসমিন নীলা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে যশোরের কয়েকজন ব্যবসায়ী। এতে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নুর আলম বাবু, ব্যবসায়ী মাহমুদ হাসান লিপু, ব্যবসায়ী জিয়া বিশ্বাস ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

তাদের অভিযোগ, সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী নীলা নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠ দাবি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। বর্তমানে তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক রয়েছেন। ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের অর্থ ফেরত ও অভিযুক্তের বিচার দাবি করে।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানায়, ব্যাংক লোন নিয়ে এলসির টাকা দিয়ে এখন তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার এখন এই প্রতারক চক্রের কারণে দেউলিয়া।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় প্রেস ক্লাব যশোরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মেসার্স এ টু জেড ট্রেডিং-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান খান।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক অচলাবস্থার সুযোগ নিয়ে নীলা তাকে ব্রড কান্ট্রি এলসি ওপেন করে দেওয়ার টোপ দেন। এরপর যশোরের নয় জন ব্যবসায়ী একজোট হয়ে এলসি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ৩০ শতাংশ মার্জিনের শর্তে আনিসুর রহমান নয় ব্যবসায়ীর পক্ষে নীলার অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি নয় লক্ষ ১২ হাজার ৫০০ টাকা জমা করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরে নীলা অযথা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

আনিসুর জানান, ইন্দোনেশিয়ায় জাহাজ রেডি করার পর এলসির জন্য চাপ দিলে নীলা তাকে একটি ভুঁয়া এলসি কপি ধরিয়ে দেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত চাইলে তিনি ৫০ লক্ষ টাকার একটি জাল বিএফটিএন কপি এবং একটি ভুঁয়া এফডিআর কপি দিয়ে প্রতারণা চালিয়ে যান। প্রতারিত হওয়ার পর তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নীলা নিজেকে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের প্রভাবশালী নেতা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, বাহাউদ্দিন নাসিম এবং সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচয় দিতেন। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম ভাঙিয়েও তিনি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, মানব পাচার এবং নথি জালিয়াতির একাধিক সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, টাকা ফেরত পেতে তিনি প্রথমে গুলশান থানায় মামলা করলে নীলা গ্রেফতার হন। কিন্তু পরে রহস্যজনকভাবে আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান। জামিনের শর্ত অনুযায়ী টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি হাইকোর্ট থেকে ‘স্টে অর্ডার’ নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে যশোরের পুলিশ সুপারের সহায়তায় নতুন মামলা দায়ের হলে পুলিশ তাকে ঢাকা থেকে পুনরায় গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

আনিসুরের মুখে জানা যায়, এর আগেও নীলার নামে চার থেকে পাঁচটি প্রতারণার মামলা ছিল এবং তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও অদৃশ্য ইশারায় এতোদিন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে এই প্রতারক চক্রের বিচার নিশ্চিতের স্বার্থে নীলাকে জামিন না দেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি পাওনা টাকা উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও জোর দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে নীলার মেয়ে নন্দিতা মেহজাবিন বলেন, ‘ওই ব্যবসায়ীরা অনৈতিক পন্থায় আমাদের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর