ঢাকা: যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন’র (বিপিএসসি) ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে কমিশন ভবনের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী স্মৃতিস্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এদিন কমিশনের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিশেষ অতিথি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মো. এহছানুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম।
জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘৮ এপ্রিল কেবল একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জন্মদিন নয়, বরং এটি দেশের প্রশাসনিক মেধা ও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত ৩টি কমিশনের পরিবর্তে একটি শক্তিশালী ও অখণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন বহাল রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, একটি বিসিএস পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা প্রয়োজন। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার মাধ্যমে মেধাবীদের দ্রুত রাষ্ট্রীয় সেবায় সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি জোর দেন। বর্তমান কমিশনের মেয়াদে কোনো প্রশ্নফাঁসের ঘটনা না ঘটায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, ‘একটি সংকটকালে বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। পিএসসির প্রতি মানুষের হারানো আস্থা আমরা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি প্রিলিমিনারি থেকে চূড়ান্ত ফলাফল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে শতভাগ ন্যায্যতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
এক বছরে একটি বিসিএস সম্পন্ন করার ‘রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে কমিশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময়সীমা কমিয়ে আনার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক কমিশনের সাম্প্রতিক অর্জনের প্রশংসা করেন। তিনি আহ্বান জানান, প্রশাসন ক্যাডারের মতো অধিক সংখ্যক মেধাবী প্রার্থীরা যাতে টেকনিক্যাল বা প্রফেশনাল ক্যাডারেও আগ্রহী হয়, কমিশন যেন সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কমিশনের সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও অর্জনের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে কমিশনের সকল সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।