ঢাকা: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার (২১ মার্চ) দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সেই অনুযায়ী, আজ সকাল থেকে গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় কিংবা টিকিট কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘ সারি থাকার কথা ছিল। কিন্তু গাবতলীর চিরচেনা সেই চিত্র আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। টার্মিনালজুড়ে বিরাজ করছে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা। সুনসান নীরবতা, নেই যাত্রীর দেখা, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে দূরপাল্লার বাস।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাস টার্মিনাল দেখলে মনেই হবে না যেন ঈদ করতে বাড়ি যাওয়ার সময় এখন। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে দূরপাল্লার বাসগুলো। কাউন্টারগুলোতে টিকিট বিক্রেতারা বসে থাকলেও টিকিটপ্রত্যাশী কোনো যাত্রীর দেখা মিলছে না। টার্মিনালের ভেতরে হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ পরিবহনের মতো বড় বড় কাউন্টারগুলোতে যেখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না, সেখানে আজ কর্মচারীরা একে অপরের সঙ্গে গল্প করে সময় পার করছেন। কেউ কেউ আবার কাউন্টার বন্ধ করে দিয়েছেন। মাঝেমধ্যে দুই একজন যাত্রী আসলেও তারা অনায়াসেই টিকিট পাচ্ছেন, নেই কোনো হুড়োহুড়ি।
ভিড় না থাকায় যারা শেষ মুহূর্তে ঢাকা ছাড়ছেন, তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পাবনাগামী যাত্রী জসীম উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ভেবেছিলাম আজ অনেক ভিড় হবে, টিকিট পাব কি-না সেটা নিয়ে টেনশনে ছিলাম। কিন্তু এসে দেখি গাবতলী একদম ফাঁকা। কোনো ভোগান্তি ছাড়াই টিকিট পেলাম। তবে যাত্রী না থাকায় বাস কখন ছাড়বে বুঝতে পারছি না।

পূর্বাশা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মোসলে উদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ২০ বছর ধরে গাবতলীতে আছি। ঈদের আগের দিন এমন সুনসান অবস্থা কোনোদিন দেখিনি। সকাল থেকে কোনো টিকিট বিক্রি হয়নি।
সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার আরমান সারাবাংলাকে বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমরা দেখেছি ঈদের আগের তিন-চার দিন নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকে না। কিন্তু এবার চিত্র উল্টো। কেন মানুষ আসছে না, তা বোঝা যাচ্ছে না। হয়তো বেশিরভাগ মানুষ আগেই ঢাকা ছেড়েছেন অথবা যাতায়াতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা বেছে নিয়েছেন।
ইগোল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার শরীফ সারাবাংলাকে বলেন, গত কয়েকদিন কিছু বাস ছেড়েছি। বেশির ভাগই আগে টিকিট বুকিং করা ছিল। কিন্ত গত দুই দিন গাবতলী থেকে তেমন বাস ছাড়া যায়নি যাত্রী সংকটে। ফলে বাস অন্য রুটে দেওয়া হয়েছে। আর আজকে তো যাত্রীই নাই। কাউন্টার বন্ধ করে চলে যাবো। বাস ছেড়ে যদি তেলের টাকাই না উঠে তাহলে তো চলবে না।

এদিকে, এবার লম্বা ছুটির কারণে মানুষ ধাপে ধাপে আগেভাগেই পরিবার নিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন। এছাড়া ট্রেনের আগাম টিকিট নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় টার্মিনালে চাপ কম হওয়ার বাস্তব কারণ রয়েছে। আর দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের একটি বিশাল অংশ এখন সায়েদাবাদ বা যাত্রাবাড়ী হয়ে যাতায়াত করেন। ফলে গাবতলীর ওপর চাপ অনেকটাই কমেছে।
অন্যদিকে, যানজট এড়াতে অনেকেই এবার সড়কপথের চেয়ে নৌপথ মাধ্যমকেও প্রাধান্য দিয়েছেন। ফলে সদরঘটেও দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।
গাবতলী বাস টার্মিনালে ভিড় না থাকায়ও টার্মিনালের ভেতরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে চোখে পড়ার মত। পর্যাপ্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকলেও তাদের তেমন কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি। যাত্রী না থাকায় তারাও বসে বসে পার করছেন সময়।