ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর টুপি ও আতরের বাজারে জমে উঠেছে কেনাবেচা। ঈদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে নতুন পোশাকের পাশাপাশি টুপি ও আতর কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছোট-বড় সব দোকান মিলিয়ে ঈদ মৌসুমে প্রতিদিনই এই খাতে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে।
সরেজমিনে রাজধানীর গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম ও পীর ইয়ামেনি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে কেনাকাটার চাপ। যদিও বিক্রেতাদের অভিজ্ঞতা মিশ্র—কেউ সন্তুষ্ট, কেউ আবার প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি না হওয়ায় হতাশ।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের এখনো কয়েকদিন বাকি থাকলেও বিক্রি ধীরে ধীরে বাড়ছে। ঈদের কাছাকাছি সময়ে তা আরও তুঙ্গে উঠবে বলে আশা করছেন তারা। ছোট দোকানগুলোতে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার বিক্রি হলেও বড় পাইকারি দোকানগুলোতে লেনদেন হচ্ছে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত।
আতর কিনতে আসা হাফেজ ফারুখ ইসলাম বলেন, বেশ কিছু দোকান ঘুড়ে দেখলাম। গতবছর যে দামে কিনেছি তার চেয়ে বেশি দাম চাচ্ছে। আতরতো কিনাই লাগবে, দামাদামি করে যেখানে কম পাব সেখানেই নিব।
টুপি বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, স্যার বিক্রি তো ভালোই হচ্ছে। ক্রেতার চাপ আমি একাই সামাল দিতে পারছি না। আশা করি আজ ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকার বিক্রি হবে।
বাজারে ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের টুপি পাওয়া যাচ্ছে। দেশি টুপির পাশাপাশি পাকিস্তানি টুপির চাহিদা বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া আতরের দাম মানভেদে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, শবে বরাতের আগেই টুপি তৈরির কাজ শুরু হয় এবং রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত তা চলতে থাকে। এরপর ঈদকে কেন্দ্র করে খুচরা বাজারে বিক্রি বাড়ে। দেশের বিভিন্ন জেলায় উৎপাদিত টুপি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।
তবে টুপি ও আতরের বাজার জমজমাট থাকলেও তসবিহ ও জায়নামাজের বাজারে তুলনামূলক মন্দাভাব দেখা গেছে। ক্রেতাদের আগ্রহ কম থাকায় বিক্রিও কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে টুপি-আতরের এই মৌসুমি বাজার এখন সরগরম, আর শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা আরও বাড়বে—এমনটাই প্রত্যাশা।