পাবনা: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হাড়িয়াকাহন গ্রামে এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রাম্য সালিশে ‘২০টি জুতার বাড়ি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সোমবার (১৩ জুলাই) ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার সময় ওই নারী বাড়িতে একা ছিলেন। এ সুযোগে প্রতিবেশী মৃত তায়জাল খাঁর তৃতীয় ছেলে মহব্বত আলী খাঁ বাড়িতে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় ওই নারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলে।
পরিবারের অভিযোগ, আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সেখানে মহব্বত আলীকে ‘২০টি জুতার বাড়ি’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
প্রতিবন্ধী নারীর ভাবী মরিয়ম খাতুন জানান, নাসির খানের আহ্বানে গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল অহাবের সভাপতিত্বে সালিশি বৈঠকে ১ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের আমীর বাবু মোল্লা, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আব্দুল মালেক, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আরশেদ আলম ও খোরশেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘সালিশি বৈঠকে প্রধানরা ২০টি জুতার বাড়ির রায় ঘোষণা করেন এবং তা কার্যকর করেন। আমাদের লোকজনদের সালিশে কথা বলার সুযোগ দেয়নি। আমরা ওই সালিশের রায় মানি না।’
এদিকে রোববার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালিশের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সোমবার দুপুরে ভুক্তভোগীর বড় ভাই এরশাদ আলী বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় মামলা করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার মতো ফৌজদারি অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে হওয়ার সুযোগ নেই। তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব প্রামানিক সালিশের রায়ের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘সালিশে আমাকে ডেকে নিয়েছিল। ওরাই বিচার করেছে, বিচারে রায় হয়ছে ২০টা জুতার বাড়ি দেওয়ার। গ্রাম পুলিশ দিয়ে জুতার বাড়ি দেওয়া হয়। এই বিচারের ঘটনা নিয়ে সমালোচনা হলে আমি বাদীপক্ষকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছি।’
সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালিশি বৈঠকের কথা শুনেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এরইমধ্যে অভিযোগ পেয়েছি। আজকেই মামলা রুজু করা হবে।’