সিরাজগঞ্জ: জেলার নয়টি উপজেলায় ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে পানি কচু। কম খরচে ভালো ফলন ও বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় দিন দিন এই কচু চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কৃষকরা বলছেন, পানি কচু চাষে ঝুঁকি কম, পরিচর্যা সহজ ও লাভ ভালো হওয়ায় এটি এখন তাদের কাছে সম্ভাবনাময় ফসল।
জেলার সদর, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, বেলকুচি, কামারখন্দ ও চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে পানি কচুর আবাদ করছেন। ক্রেতারাও জানান, সহজলভ্য ও পুষ্টিকর হওয়ায় তারা পরিবারের জন্য পানি কচু কিনছেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে জেলায় ১৭২ হেক্টর জমিতে পানি কচুর চাষ হয়েছে। এতে কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়েছে। সদর উপজেলার কৃষক সেকেন্দার আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘আগে জমিতে অন্য ফসল করতাম। এখন পানি কচু চাষ করে ভালো লাভ পাচ্ছি। খরচ তুলনামূলক কম, আর বাজারে বিক্রি করতে সমস্যা হয় না।’
রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর সারাবাংলাকে বলেন, ‘পানি কচুর চাষে বেশি ঝুঁকি নেই। নিয়মিত পরিচর্যা করলে ফলন ভালো হয়। গত কয়েক বছর ধরে চাষ করছি। এবারও ভালো ফলনের আশা করছি।’ উল্লাপাড়ার কৃষক জাহিদুল ইসলাম সারাবাংলার এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘পানি কচু চাষ করে পরিবারের আয় বেড়েছে। জমির ব্যবহার ভালো হচ্ছে এবং বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা এই ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।’
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পানি কচুর চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ক্রেতাদের মধ্যে দেশীয় সবজির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। পুষ্টিগুণ ও স্বাদের কারণে পানি কচু নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে। সবজি ব্যবসায়ী মো. হাসেম সারাবাংলাকে বলেন, ‘পানি কচু এখন আগের চেয়ে বেশি বিক্রি হয়। বাজারে আনলেই দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়।’
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা সারাবাংলাকে বলেন, “পানি কচু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি সবজি। এতে ভিটামিন ‘এ’, ভিটামিন ‘সি’, আয়রন ও ফাইবার রয়েছে। তাই বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।”
কৃষিসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সিরাজগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া পানি কচু চাষের জন্য উপযোগী। আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে এই ফসল আরও সম্প্রসারিত হবে। কম খরচে বেশি লাভ, সহজ পরিচর্যা ও বাজারে ভালো চাহিদার কারণে সিরাজগঞ্জে পানি কচু এখন কৃষকদের কাছে নতুন সম্ভাবনার ফসল হয়ে উঠেছে।