সিলেট: পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং দেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারা তুলে ধরতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’। উৎসবে বাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, খাদ্য, পোশাক ও ঐতিহ্যের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে শ্রীমঙ্গলের ফুলছড়া চা বাগান মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসবে খাসিয়া, মনিপুরী, গারো, ত্রিপুরা, উরাও, বুনারজি, শবর, গঞ্জু, কড়া, গৌড়, তেলেগু, রবিদাসসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য, খাবার ও কৃষ্টি-সংস্কৃতি তুলে ধরা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে রয়েছে তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, জীবনধারা ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতির প্রদর্শনী।
এবারের উৎসবের অন্যতম আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে খাসিয়া জনগোষ্ঠীর পান প্রস্তুতির সরাসরি প্রদর্শনী, ত্রিপুরাদের কোমর তাঁত, মণিপুরীদের তাঁতশিল্প, চা ও রাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ, হোমস্টে কার্যক্রম এবং কুমার সম্প্রদায়ের মাটির জিনিসপত্র তৈরির প্রদর্শনী।
উৎসব উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ বলেন, ‘গত বছর শীত মৌসুমে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিটিআরআই) কাকিয়াছড়া মাঠে প্রথমবারের মতো হারমোনি ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার বর্ষা মৌসুমে ফুলছড়া চা বাগান মাঠে এ আয়োজন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট একটি স্থানে নিয়মিত এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে বসবাসরত ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি বাঙালি সংস্কৃতিরও উপস্থাপনা থাকবে। আগামী বছর থেকে সারাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে এনে আরও বড় পরিসরে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসরত সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা এই ফেস্টিভ্যালের অন্যতম লক্ষ্য। মেলায় স্টলগুলোতে তাদের উৎপাদিত পণ্য, খাবার, পোশাক ও জীবনধারা প্রদর্শন এবং বিক্রির ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি তাদের নাচ, গান ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের পরিবেশনাও রয়েছে।’
পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশা, হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দেশের বহুমাত্রিক সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।