Saturday 13 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রমেকে রোগীর মৃত্যু: স্বজন-চিকিৎসক হাতাহাতি, ২ ঘণ্টা বন্ধ জরুরি বিভাগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ জুন ২০২৬ ১৯:৫১

রমেক হাসপাতালের পরিস্থিতি।

রংপুর: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। পরে মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে স্বজনেরা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

এর আগে, শনিবার (১৩ জুন) ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূর নাহার বেগম (৬৫) অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ছেলে রিফাত তাকে রমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের কাছে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও আগে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

রোগীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাঈম, ডা. রাকিবসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায় এবং একজন নার্সের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে।

এতে জরুরি বিভাগে আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়াই ফিরে যেতে দেখা যায়।

মৃতার স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর মরদেহ বুঝিয়ে দিতে দীর্ঘসময় গড়িমসি করা হয়েছে। মৃতার বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও সেখান থেকে মরদেহ নামিয়ে নেওয়া হয়।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘ভোর থেকে এখনও পর্যন্ত মায়ের মুখ দেখতে পারিনি। কখনও ভাবিনি মারা যাওয়ার পরও মায়ের মরদেহ নিয়ে এমন ভোগান্তি হবে।’

তবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত লোকসমাগম ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময় মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল না। উল্টো অহেতুক চিকিৎসক ও নার্সদের মারধর ও অশোভন আচরণের চেষ্টা করা হয়েছে।’

এদিকে বেলা ৩টার দিকে মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে স্বজনেরা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের আশ্বাসে মরদেহ হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি পেয়ে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

পরিচালক আশিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় এজাহার দাখিল করে আইনি ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ‘কোনো চিকিৎসকই চান না রোগী অবহেলায় মারা যাক। কিন্তু স্বজনেরা যে আচরণ করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

এ ছাড়া জরুরি বিভাগ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসক-স্বজন সংঘাত মোকাবিলায় হাসপাতালের কোনো পূর্বনির্ধারিত প্রোটোকল ছিল কি না, জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘হঠাৎ উত্তেজনায় হামলার ঘটনা এড়াতে বাধ্য হয়েই জরুরি বিভাগ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর