Tuesday 09 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরের ২ কিমি পথে ৩ ঘণ্টা / ফিরতি যাত্রীদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট:
৯ জুন ২০২৬ ১১:৩৩ | আপডেট: ৯ জুন ২০২৬ ১১:৪৭

যানজটে আটকে পড়া বাস।

রংপুর: ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের মডার্ণ মোড় এলাকায় স্মরণকালের ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক পার হতে যাত্রীদের লাগছে দুই থেকে তিন ঘণ্টা। তীব্র গরম ও দীর্ঘ সময় আটকে পড়ার পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে অসাধু একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ অবস্থায় যাত্রী ও চালকরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নামে রংপুরের মডার্ণ মোড় এলাকায়। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, সড়ক সংস্কার কাজ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতায় সৃষ্ট যানজট এখন রীতিমতো মহাসড়কের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বাসের অবৈধ স্টপেজ, অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড ও নির্মাণাধীন সড়কের কারণই মূলত এই যানজটের প্রধান কারণ। জানা গেছে, মহাসড়কের ধারণক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশি যান চলছে। মডার্ণ মোড় ও শহরের ভেতর যত্রতত্র দূরপাল্লার বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা এসব স্ট্যান্ড যানজটকে আরও প্রকট করছে, বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। এছাড়া দর্শনা মোড়ে সড়ক সংস্কারের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে, যা মুহূর্তেই যানজট ছড়িয়ে দিচ্ছে মডার্ণ মোড় থেকে সাতমাথা, মাহিগঞ্জ ও টার্মিনাল পর্যন্ত।

এদিকে প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকা যাত্রীদের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগেন। পানীয় জলের সংকট, খাবারের অভাবে ও টয়লেট সুবিধা না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এই যানজটকে পুঁজি করে একটি অসাধু চক্র ফিরতি যাত্রীদের কাছে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বাড়তি ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এক বাসযাত্রী বলেন, ‘ঢাকার টিকিট ৬০০ টাকা হলেও এখানে বসে ২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। কোনো বিকল্প নেই।’

জানা গেছে, গত ঈদুল ফিতরে এই এলাকায় ফ্লাইওভারের কাজ চললেও সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার কারণে যাতায়াত ছিল তুলনামূলক স্বাভাবিক। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এবার পুলিশের সমন্বয়হীনতা, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গাফিলতি ও যানবাহন চাপ মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে।

ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি জানান, যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিক বেশি থাকায় সমস্যা হয়েছে। একাধিক দল দিন-রাত কাজ করছে। তার দাবি, সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন হলে আগামী ঈদে এই সমস্যা থাকবে না। তবে এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

তবে সড়ক বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে বলছেন, ঈদের আগে ও পরে অন্তত এক সপ্তাহ লম্বা ছুটি ঘোষণা করে যাত্রীদের চাপ বণ্টন, মডার্ণ মোড় ও দর্শনা মোড়ে অস্থায়ী ট্রাফিক বুথ ও দ্রুতগতির করিডোর তৈরি, অবৈধ বাস স্ট্যান্ড ও অটোরিকশা স্টেশন উচ্ছেদ এবং নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত আদায়কারী চক্রের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেই এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, রংপুরের মডার্ণ মোড়ের যানজট এখন আর শুধু ভোগান্তির ঘটনা নয়, এটি প্রশাসনের পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার বড় উদাহরণ। ঈদ যাত্রায় জনদুর্ভোগ লাঘব করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এই চিত্র আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর