টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় রডবোঝাই ট্রাক উলটে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৯ জন। দুর্ঘটনায় আহত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নওগাঁর মান্দা উপজেলার আব্দুল রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই ট্রাকটি দুলতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি উলেটে যায়। এরপর চারদিকে চিৎকার-আর্তনাদ শুরু হয়। অনেকেই ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন।’
এ ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), নেয়ামতপুর উপজেলার সাইদুলের ছেলে সারিকুল (২৫), রাজশাহীর তানোর উপজেলার আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার নজরুল (৬০) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মামুন (৪৫)।
নিহতদের সবার বাড়ি রাজশাহী, নওগাঁ ও চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় বলে জানা গেছে।

উদ্ধার হওয়া মরদেহ।
টাঙ্গাইলের (অতিরিক্ত) পুলিশ সুপার ফৌজিয়া হাবিব বলেন, নিহত ও আহতরা সবাই নোয়াখালী জেলার চৌমহনী এলাকায় ভাঙ্গারি মোবাইল ফোন ফেরী করে কেনেন। ঈদ উপলক্ষ্যে তারা ফেনী জেলার মহিপাল থানা এলাকা থেকে রড ভর্তি ট্রাকে উঠে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাদিকুর রহমান জানান, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ১৫ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। আহত অবস্থায় ৯ জন ভর্তি হয়। এরমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে চারজন চলে গেছে। বাকি ৫ জন হাসপাতাল চিকিৎসা নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, আজ সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে কালিহাতী উপজেলার যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের সরাতৈল এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্রগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাক রডসহ যাত্রীবোঝাই করে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে উলটে যায়। ট্রাকের এর ওপরে থাকা যাত্রীরা রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনা স্থলে মারা যান। আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।