পটুয়াখালী: নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, ব্লু-ইকোনোমি বা সুনীল অর্থনীতি এখন জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত অগ্রাধিকারের জায়গা দখল করেছে। বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। এ অঞ্চলে রয়েছে বিপুল মৎস্যসম্পদ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎস এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ ব্যবহারের সুযোগ, যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, এই সুনীল অর্থনীতিকে (ব্লু-ইকোনোমি) বাস্তব উন্নয়নে রূপ দিতে সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সোয়া ১০টায় বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪৪১ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ ও সমুদ্রসীমা সুরক্ষার লক্ষ্যে নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নৌবহরে যুক্ত করা হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার, আধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম ও প্রযুক্তি। পাশাপাশি বানৌজা নবযাত্রা ও জয়যাত্রা নামের দুটি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এখন ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
তিনি জানান, ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়াতে নতুন নৌঘাঁটি, যুদ্ধজাহাজ এবং আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের প্রয়োজনে সর্বদা প্রস্তুত থেকে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে নৌবাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নৌপ্রধান প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এসময় নবীন নাবিকরা জাতীয় পতাকা স্পর্শ করে দেশের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গের শপথ নেন।
পরে প্রশিক্ষণে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব অর্জন করায় শাহরিয়ার টুটুলকে ‘নৌপ্রধান পদক’, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী সামিউল ইসলাম শাকিলকে ‘কমখুল পদক’, তৃতীয় স্থান অধিকারকারী কাদের মিয়াকে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ এবং সেরা চৌকশ নারী নাবিক হিসেবে মারিয়া আক্তারকে ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’ প্রদান করেন নৌবাহিনী প্রধান। এসময় তাদের হাতে ক্রেস্টও তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দফতরের পিএসওরা, উচ্চপদস্থ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।