নেত্রকোনা: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ধর্ষণের শিকার ১১ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় করা মামলার আসামি মাদরাসার শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। মাদরাসার ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
দুপুরে র্যাব-১৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিআইজি বলেন, ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্তা। এ ঘটনায় গত ২৩ এপ্রিল নেত্রকোনার মদন থানায় শিশুটির মা মামলা করেন। মামলায় মাদরাসা শিক্ষককে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। এরপর আজ বুধববার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অধিনায়ক বলেন, আজকেই আসামিকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাকী তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ সবকিছু পুলিশ করবে। ধর্ষণের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তবে তিনি তেমন কিছু বলেনি।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, ডিএনএ টেস্ট হয়নি। তবে আদালত চাইলে ডিএনএ টেস্ট হবে।
শিশুটির পরীক্ষাকারী ডাক্তারের নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে অধিনায়ক বলেন, আমরা তদারকি করছি। সাইবার স্পেসেও তদারকি চলছে কারা হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া মদন থানা পুলিশ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ এই মামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা, এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। সে ওই মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী ছিল। গত বছরের অক্টোবর মাসে ভুক্তভোগী শিশুটিকে ক্লাস শেষে রুম ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে ওই শিক্ষক। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বলেন। বললে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি তার মা ও নানীকেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল বলে জানায় শিশুটি।
সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। তার মা মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে আসামি মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হলে অজ্ঞাত স্থান থেকে মঙ্গলবার (৫ মে) ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিষয়টির সঠিক সুরাহা করতে তিনি ডিএনএ টেস্টের দাবি জানান।