Saturday 02 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বুনো হাতির আক্রমণে মা-মেয়ে নিহত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪৫ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩৮

মা-মেয়ে নিহতের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের রামু উপজেলায় বুনো হাতির আক্রমণে এক নারী ও তার শিশুকন্যা নিহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম খুনিয়াপালং এলাকার সৈয়দ কলোনীতে এ ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতরা হলো—আসমা বিবি (২৫) ও তার তিন বছর বয়সি মেয়ে সিমন আরা।

স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল উদ্দিন জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ করে তিনটি বুনো হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। হাতিগুলো সৈয়দ কলোনির কয়েকটি বসতঘরের সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে এবং আশপাশের গাছপালা উপড়ে ফেলতে শুরু করে। এতে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

তিনি আরও জানান, শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন একরাম মিয়া ও তার স্ত্রী আসমা বিবি। তাদের সঙ্গে ছিল দুই শিশুসন্তান। এ সময় দু’টি হাতি তাদের দিকে তেড়ে এলে একরাম মিয়া ছয় বছর বয়সি ছেলে রেহান উদ্দিনকে নিয়ে দ্রুত বাড়ির পেছনে গিয়ে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আসমা বিবি ও তার ছোট কন্যা সিমন আরা হাতির আক্রমণের মুখে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হয়।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জয়নাল আবেদিন বাবুল জানান, হাতির পালটি ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। সামনে পড়ায় মা-মেয়ের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না। হাতিরা বসতঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি আশপাশের গাছের আম ও কাঁঠাল খেয়ে পরে পাশের পাহাড়ে চলে যায়।

তিনি নিশ্চিত করেন, আক্রান্ত পরিবারটি রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা বনবিভাগের জমিতে ঘর তুলে কয়েক বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।

এদিকে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে খাবারের সন্ধানে বুনো হাতির পালটি খুনিয়াপালং ও দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। ফলে পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এতে জনজীবন হয়ে উঠেছে অনিরাপদ।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের ধোয়াপালং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটির পর হাতির পালটিকে তাড়িয়ে বনের গভীরে প্রবেশ করানো হয়েছে। একইসঙ্গে বন্য হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মাজেদের দাবি, বনাঞ্চল উজাড় এবং মানুষের বসতি বিস্তারের কারণে বুনো প্রাণী ও মানুষের সংঘাত বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তার।

রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফরিদ বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে উপ-পরিদর্শক শেখ আব্দুস সবুর মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করেছেন। পরে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি অপমৃত্যুর ঘটনা হিসেবে মামলা রুজু করা হবে।’

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর