সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে তেল ও শ্রমিক সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। হারভেস্টার মেশিন চালাতে প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়া এবং শ্রমিকের ঘাটতিতে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে তাদের।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। বেশিরভাগ হাওড়ের ধান এখনও আধাপাকা বা কাঁচা রয়েছে। পুরোপুরি পেতে আরও ৭-১০ দিন সময় লাগতে পারে।
কৃষকেরা বলছেন, যেসব জমির ধান পেকেছে, তা সময়মতো কাটতে না পারলে বৃষ্টি বা পানিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে এবং তেল সংকটে ধান কাটার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। জনপ্রতি ৭০০-৮০০ টাকা মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তারা।
সুনামগঞ্জের দিরাই হাওড়ের কৃষক মোহাম্মদ সিজন মিয়া এ বিষয়ে বলেন, ‘হাওড়ে মোটামুটি ধান পেকে গেছে, কিন্তু তেলের অভাবে হারভেস্টার মেশিন চালাতে পারছি না। শহরের পাম্পে গেলে পরিমাণমতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের প্রতিদিন তেল দরকার হয় ৩৫-৪০ লিটার। পাম্পে গেলে তেল দেয় মাত্র পাঁচ লিটার। ফলে ধান কেটে কীভাবে গোলায় নেব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তেলের ব্যবস্থা না করতে পারলে আমাদের ক্ষতি হয়ে যাবে।’
দিরাই উপজেলার কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘আমাদের হাওড়ে ধান পেকে গেছে; কিন্তু শ্রমিকের এতো পরিমাণ সংকট যে ধান কাটতে পারছি না। আগে বাইরের জেলা থেকে শ্রমিক আনা হতো, কিন্তু এবার বাইরের শ্রমিক আনতে খরচ অনেক বেশি পড়ছে। এখন যদি সময়মতো ধান কাটতে না পারি, তাহলে আমাদের সবকিছুই পানিতে নষ্ট হয়ে যাবে। শ্রমিক সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘আমরা বাইরে থেকে শ্রমিক আনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ পার্শ্ববর্তী জেলা, বিশেষ করে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা, এমনকি উত্তরবঙ্গেরও কিছু জেলায় চিঠি দিয়েছি—যাতে সেখান থেকে শ্রমিক নিয়ে আসা যায়। পাশাপাশি এখানকার স্থানীয় শ্রমিকের সরবরাহ বৃদ্ধি করার জন্য যে সমস্ত বালুমহল আছে বা পাথর ক্র্যাশিং মিল আছে, সেগুলো নোটিশ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেখানকার শ্রমিক ধান কাটার জন্যে আসবে। পাশাপাশি আমরা স্থানীয়ভাবে যাতে আরও কিছু শ্রমিক সংগ্রহ করা যায়, সে চেষ্টা করছি। যেসব শ্রমিক বিভিন্ন উপজেলায় কাজ করছে, বাইরে থেকে আসছে—তাদের মোবাইলফোন নম্বর সংগ্রহ করে যেখানে শ্রমিক সংকট সেসব উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাকে দিয়েছি।’