পাবনা: অব্যবহৃত থেকেই নষ্ট হলো পাবনার বেড়া উপজেলার চরবাসীর জন্য বরাদ্দ হওয়া নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি। এক যুগের বেশি আগে বরাদ্দ পাওয়া নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি এক দিনের জন্যও সেবা দিতে পারেনি চরবাসীদের। এখন সেটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যমুনা নদী ব্যষ্টিত পাবনার বেড়া উপজেলা। এ উপজেলার চর সাফুল্লা, চর পাঁচাকোলা, চরনাগদাসহ ২৫টি গ্রাম পদ্মা ও যমুনা নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। চরে বসবাসকারী লক্ষাধিক মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। চরগুলোতে নেই তেমন স্বাস্থ্য সেবার সুব্যবস্থা।
অসুস্থ মানুষের এক মাত্র ভরসা উপজেলা সদরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেখানে যেতে পরতে হয় নানা বিড়ম্বনায়। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে নৌকা বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করা ছাড়া বিকল্প থাকে না। অনেক চরেই সন্ধ্যার পরে পাওয়া যায় না নৌকা।
চর সাফুল্লা গ্রামের রহিম আলী তিনি জানান, চরবাসী জন্য সরকার নানাবিধ উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে তারা সে সকল সুবিধা পাননি। রাত কিংবা দিন অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। সময়মতো নৌকা বা ট্রলার না পাওয়ায় আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন রোগীরা।
এমন বাস্তবতা বিবেচনাই নৌপথে রোগী পরিবহনের জন্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৩ সালে সরকার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করেছিল। কিন্তু সেটি কখনোই মানুষের কাজে আসেনি। চালু তো দূরের কথা, এক দিনের জন্যও সেটিকে চরে গিয়ে রোগী আনতে দেখেননি স্থানীয় লোকজন। দীর্ঘদিন পড়ে থেকে অকেজো হয়ে পড়েছে। চুরি হয়ে গেছে ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই।
বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. এস.এম মিলন মাহামুদ জানান, নতুন করে নৌ অ্যাম্বুলেন্স পাবার চেষ্টা চলছে।