Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চুয়াডাঙ্গায় তেল মজুত ও পাচার ঠেকাতে বিজিবির নজরদারি জোরদার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৪৭

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে তৎপর বিজিবি।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি জোরদার করেছে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। একইসঙ্গে আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার রোধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা আনুমানিক ১১টায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, যশোর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি কাজ করছে। যশোর অঞ্চলের অধীনে সাতটি ব্যাটালিয়নের ১১৬টি বিওপির মাধ্যমে প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রম চলছে।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, পাচার এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। এ ধারাবাহিকতায় ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত বিশেষ তল্লাশি ও নজরদারি চলছে। পাশাপাশি দায়িত্বপূর্ণ এলাকার দুইটি সীমান্তবর্তী উপজেলা ও ব্যাটালিয়নসংলগ্ন ১০টি পেট্রোল পাম্পে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।

সম্ভাব্য তেল পাচারের রুট চিহ্নিত করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মতবিনিময় সভা আয়োজন এবং প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত ১৫ এপ্রিল থেকে জীবননগর ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালিয়ে ৮৭ লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) ও ৭ লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। একই ঘটনায় দুইজনকে যথাক্রমে ৫ ও ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং একজনকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

যশোর অঞ্চলের অধীন বেনাপোল ও ভোমরা স্থলবন্দর এবং দর্শনা শুল্ক স্টেশনে ২৪ ঘণ্টায় ২১টি বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত তেল পাচার প্রতিরোধে মোট ২ হাজার ৬৩৩টি টহল, ৯৫০টি চেকপোস্ট এবং ৬৭টি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একই সময়ে ১৫টি সীমান্তবর্তী উপজেলার ২২টি পেট্রোল পাম্পে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

৭ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৪১টি টাস্কফোর্স অভিযানে অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দের পাশাপাশি তিনজনকে কারাদণ্ড এবং কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ডিলারকে মোট ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে বিওপি পর্যায়ে এখন পর্যন্ত ৯৪৩টি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০২৬ সালে নিয়মিত অভিযানে যশোর অঞ্চলে বিজিবি ৯৬ জন আসামিসহ প্রায় ৬২ কোটি ৬০ লাখ টাকার চোরাচালানি পণ্য জব্দ করেছে। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে ১ দশমিক ২৮৯১৫ কেজি স্বর্ণ, ১৫৫ দশমিক ৭৬ গ্রাম ডায়মন্ড, ১০ দশমিক ৫ কেজি রৌপ্য, ৪২টি অস্ত্র, ১৫২ রাউন্ড গুলি, ২ হাজার ৪০৮ বোতল মদ, ১০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ, ১২৩ কেজি গাঁজা, ২৬ হাজার ২৭১টি ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৪ হাজার ২২৪ বোতলের বেশি ফেন্সিডিল রয়েছে।

এ ছাড়াও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সীমান্তে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।