টাঙ্গাইল: আগামীকাল মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে তার প্রথম টাঙ্গাইল সফর।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন ।
সরকার প্রধানের আগমন ঘিরে টাঙ্গাইল জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে স্বল্প সময়ে “কৃষক কার্ড” বিতরণ জেলার কৃষকদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার হয়েছে। সহজলাভ্য দামে সার, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণ কৃষকের প্রাপ্তির নিশ্চয়তাসহ দশটি সুবিধা পাবেন এই কার্ড ধারী কৃষকরা।
একই সঙ্গে ১০টি উপজেলায় (শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর ও বোদা, ইসলামপুর, শৈলকুপা, নেছারাবাদ, জুড়ী, কুমিল্লা আদর্শ সদর, গোয়ালন্দ ও টেকনাফ) ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির ঐতিহাসিক উদ্বোধন করবেন। সেখানে তিনি এক বিশাল কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ভাষণ শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে আয়োজিত দুই দিন ব্যাপী কৃষি মেলার শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ দিকে সরকার প্রধানের আগমন উপলক্ষ্যে বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম সাজানো হচ্ছে বর্ণিল সাজে। টাঙ্গাইল শহরজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও শোভাবর্ধনের কাজ। মঞ্চ তৈরি ও স্টেডিয়ামসহ এর আশপাশের এলাকায় সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। একই সঙ্গে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যান কৃষি মেলার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই থেকে রাস্তার দুই পাশে নেতাকর্মীরা অধীর আগ্রহে প্রহর গুনছেন।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, “কৃষি কার্ড” বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ উদ্যোগ। যার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে ডিজিটাল ডাটাবেজের আওতায় এনে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সরাসরি প্রদান করা হবে। এই কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার-বীজ, কৃষি উপকরণ, সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি এবং সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ-পরিচালক আশেক পারভেজ জানান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের মোট ১ হাজার ৪৭০ জন কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। এর মধ্যে একশ’ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকবে। আর ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রথানমন্ত্রী সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড তুলে দিবেন। এ ছাড়াও টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে ২ দিনব্যাপী কৃষক মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরি জানান, টাঙ্গাইলের প্রবেশদ্বার মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে শহর বাইপাস পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার ফোরলেন সড়কের সংস্কার করা হয়েছে। এ ছাড়াও পুরাতন বাসটার্মিনাল থেকে সন্তোষ মাওলানা ভাসানীর মাজার পর্যন্ত রাস্তার সংস্কার করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে নিরপত্তা নিয়ে প্রশাসনের সাথে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের দফায় দফায় বৈঠক চলছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান নেওয়া হয়েছে। এক প্রকার নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হচ্ছে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকা।
টাঙ্গাইল (সদর)-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে কৃষকদের উন্নয়নে ‘কৃষক কার্ড’ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। পহেলা বৈশাখের মতো একটি দিনে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিধন্য টাঙ্গাইলের মাটিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়া জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমরা মাঠ পরিদর্শন করেছি এবং নবান্নের ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুশৃঙ্খল অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, টাঙ্গাইলের মানুষ এ আয়োজনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বৈশাখী মেলা, কৃষি মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। যেখানে দেশের খ্যাতনামা শিল্পীরা অংশ নেবেন।