Thursday 09 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আবু সাঈদ হত্যার রায়
‘আদেশদাতারা বেঁচে গেল, শুধু নিচের লোকদের শাস্তি’

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২৪ | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:২৫

শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন।

রংপুর: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে গভীর অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। রায় ঘোষণার পরপরই শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হলো, তারাই তো বেঁচে গেল। এ হত্যায় জড়িত আরও বড় বড় অপরাধীদের কোনো সাজা দেওয়া হয়নি।’

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও আদেশদাতা উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বড় অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় পরিবার মনে করছে, বিচার পূর্ণাঙ্গ হয়নি।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ, গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছর, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছরসহ বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ (অন্য সদস্য: বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর) এ রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার দাবি—কঠোরভাবে এর বিচার হোক। ছেলে হত্যার ঘটনাটি শুধু কনস্টেবলের ওপর দিয়ে গেল। যাদের আদেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা বেঁচে গেল। আমরা সব আসামির ফাঁসি চাই।’

পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, দুই নিচের পুলিশ সদস্যের ওপর দায় চাপিয়ে আদালত ও সরকার ‘পার হয়ে গেছে’। আদেশদাতা উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রের সহায়তায় আপিল করা সম্ভব হলে তারা অবশ্যই আপিল করবেন। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মকবুল হোসেন।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেওয়া তার সেই ভিডিও দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনা কোটা বিরোধী আন্দোলনকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটায়।

মামলায় মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হয়। এর মধ্যে ৬ জন গ্রেফতার রয়েছেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সাজা পেয়েছেন। তবে পরিবার মনে করছে, প্রকৃত নির্দেশদাতাদের (উর্ধ্বতন কর্মকর্তা) শাস্তি না হওয়ায় বিচার অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। আবু সাঈদ হত্যা মামলার এ রায় জুলাইয়ের শহিদদের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও পরিবারের অসন্তোষ নতুন করে বিতর্ক তুলেছে।