রংপুর: ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক শহিদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষণা করা হবে।
গত ৫ মার্চ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই তারিখ নির্ধারণ করেন। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করে। মামলাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদের হত্যাকাণ্ড হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত এবং এর রায় দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মামলার অবস্থা
ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৩০ জুন ২০২৫ সালে বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য (ভিসি) ড. মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
৩০ আসামির মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন—বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। বাকি আসামিদের মধ্যে সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ অনেকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
যা ঘটেছিল
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেরোবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া তার সেই ভিডিও দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই ঘটনা কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয় এবং এক পর্যায়ে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটায়।
পরিবারের আহ্বান
শহিদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসাইন ফেসবুকে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘আগামীকাল রোজ বৃহস্পতিবার আমার ছোট ভাই শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রদান করবেন। শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে রায় পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য উপস্থিত হওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।’
শহিদের পরিবার ও সহযোদ্ধারা রায়কে ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের’ প্রথম বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। তবে তারা দাবি করেছেন, রায় ঘোষণার পর দ্রুত কার্যকর করা এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের মাধ্যমে পূর্ণ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
আবু সাঈদের সহযোদ্ধারা বলছেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। দেশবাসী এখন অপেক্ষায় রয়েছে—রায় কীভাবে ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়ের অবসান ঘটায়।