নোয়াখালী: জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৩১ জন শিশু ভর্তি রয়েছে এবং নতুন রোগী প্রতিদিনই যুক্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি, তবে বিভিন্ন বয়সী রোগীও রয়েছে। প্রতিদিনই সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, জায়গার অভাবে হাসপাতালের পুরাতন ভবনে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের একটি কক্ষে ‘হামের’ চিকিৎসা চলছে। তবে, সেখানেও গাদাগাদি করে চলছে চিকিৎসা। একটি বেডে দুই-তিন শিশুকেও রাখা হয়েছে। কাউকে আবার মেঝেতেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিশু এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসাদের হাম-উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর এখানে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সীমিত জনবল ও ওয়ার্ড সংকটের মধ্যে চিকিৎসায় হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা।
হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় এর চিকিৎসা আলাদাভাবে দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ মাহমুদে কায়নাত। তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া জরুরি। কিন্তু আমাদের নতুন ভবন হস্তান্তর না করায় এবং পুরাতন ভবনে জায়গার অভাবে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের একপাশে হামের উপসর্গের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে, কাল থেকে আলাদা ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুর হামের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা বা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী জানান, হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ৩১ শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে এরকম শিশু আছে ৩১ জন। প্রতিদিন এ ধরনের রোগী বাড়ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, হামের পাশাপাশি যেসব শিশু ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তাদেরকে সময়মত চিকিৎসা দিতে না পারলে মৃত্যুঝুঁকি রয়েছে। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত তেমনটা না ঘটলেও সামনে সংক্রমণ ঠেকাতে নতুন ওয়ার্ড এবং আরো ওষুধের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নোয়াখালীতে এ পর্যন্ত ৩৬ শিশুর নমুনা ঢাকায় পাঠানোর পর পাঁচজনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে সদর হাসপাতালের ৩১ জন হাম উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি আছে। তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জেলায় প্রতি মাসে হামের ১৯ হাজার ৪৫ ভায়াল চাহিদার বিপরীতে মজুত আছে ৪ হাজার ৩৯১টি ভায়াল।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘হামের লক্ষণ হিসেবে জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টির কারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বিভিন্ন উপজেলায় হামের রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত শিশুদের আগে টিকা দেওয়া হয়নি, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। জেলায় হামে আক্রান্ত রোগীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা রাখা, শিশুদের নিয়মিত টিকা কার্যক্রম জোরদার করার জন্য সরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’