Thursday 02 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কুমিল্লায় ভিডিও করায় ২ সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠালেন এসিল্যান্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৪ | আপডেট: ২ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩৫

হাতকড়া পরানো দুই সাংবাদিক।

কুমিল্লা: কুমিল্লার চান্দিনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে ভিডিও করায় মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠিয়েছেন সহকারী কমিশনার ফয়সাল আল নূরের বিরুদ্ধে।

বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে, বিকেল প্রায় চারটার দিকে চান্দিনা থানা থেকে মুক্তি পান ওই দুই সাংবাদিক।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন, স্থানীয় দৈনিক আমার শহর-এর দেবীদ্বার প্রতিনিধি আবদুল আলীম এবং দৈনিক মানবজমিন-এর দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার।

সন্ধ্যার পর থেকে সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরিহিত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হন কুমিল্লার কর্মরত সাংবাদিকরাও।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সাংবাদিক আব্দুল আলিম জানান, তার এক আত্মীয়ের নামজারি নিয়ে গত এক বছর ধরে ঘোরানো হচ্ছিল। বুধবার শুনানির দিন ধার্য থাকায় তিনি সহকর্মী রাসেল সরকারকে নিয়ে এসিল্যান্ডের কার্যালয়ে যান। দুপুর পৌনে ২টার দিকে শুনানির বিষয়ে জানতে চাইলে এসিল্যান্ড উত্তেজিত হয়ে দুর্ব্যবহার শুরু করেন। আব্দুল আলিম এই আচরণের ভিডিও ধারণ করতে গেলে, এসিল্যান্ড ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পুলিশ ডেকে তাদের দুজনকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠিয়ে দেন।

আব্দুল আলিম আরও অভিযোগ করেন, থানায় নেওয়ার পর তাদের মোবাইল থেকে সব তথ্য মুছে ফেলা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে আর না বাড়াতে জোর করে মুচলেকা লিখে নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত সহকারী কমিশনার ফয়সাল আল নূর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির ফল। আমি একটি শুনানিতে ব্যস্ত থাকাকালে তারা অনুমতি ছাড়া কক্ষে প্রবেশ করে। নিয়ম অনুযায়ী তাদের সাংবাদিকের কার্ড দিয়ে আমার সঙ্গে দেখা করার কথা। কিন্তু তারা কোনো কার্ড আমাকে দেখাননি। এবং তারা যে সাংবাদিক সে কথাও তারা বলেননি। তারা জোর করে আমার রুমে ঢুকে জিজ্ঞেস করেন, কখন তাদের শুনানি হবে। তখন আমি তাদের অপেক্ষা করতে বলি। এবং তাদেরকে জানাই বিবাদী এখনো আসেনি। বিবাদী আসলে আমি তাদের ডেকে শুনানি করবো।

ফয়সাল আল নূর আরও বলেন, তারা ভিডিও করতে গেলে আমি পুলিশ এনে তাদেরকে আটক করতে বলি। পুলিশ যখন তাদেরকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটক করে তখন তারা সাংবাদিক পরিচয় দেয়। তারপর আমি পুলিশকে বলি তাদের হ্যান্ডকাফ খুলে দিতে বলে। তখন আমি চান্দিনা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে কল করে থানায় আসার অনুরোধ করি। তারা আসলে সবাই একসঙ্গে থানায় বসে বিষয়টি মীমাংসা করি।

সারাবাংলা/এএ