খুলনা: ঈদুল ফিতরের ঠিক একদিন আগে শেষ মুহূর্তে খুলনায় জমে উঠেছে ঈদ বাজার। নিজেদের বর্ণিল সাজে সাজাতে পোশাকের পাশাপাশি জুতা ও প্রসাধনী সামগ্রী কিনতে বিপণিবিতানগুলোতে ভিড় করছেন সব বয়সের মানুষ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে খুলনা নগরীর নিউ মার্কেট, শপিং কমপ্লেক্স, জলিল মার্কেট, হকার্স মার্কেট, শিববাড়ী মোড়ের শোরুম, সোনাডাঙ্গার শোরুম, ডাকবাংলা মোড়, রেলওয়ে মার্কেট, পিকচার প্যালেস মোড়, বড় বাজার, মশিউর রহমান মার্কেট, কবি কাজী নজরুল ইসলাম মার্কেট, দরবেশ চেম্বার, নান্নু সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানগুলোতে কেনাকাটা করতে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে এবারের ঈদ বাজারে পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই।
খুলনার মশিউর রহমান মার্কেটে তেরখাদা উপজেলা থেকে আসা ক্রেতা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর সব জিনিসের দাম অনেকটাই বেশি। পরিবারের সবার জন্য কেনাকাটা করতে এসে বাজেটের চাপ অনুভব করছি। এখন পর্যন্ত পরিবারের সবার জন্য কেনা হয়েছে। নিজের পছন্দের কিছু এখনও কেনা হয়নি। এবার পছন্দ মতো নিজের জন্য কিনবো।’
রূপসা উপজেলার বাসিন্দা মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘পোশাকের অতিরিক্ত দাম চাচ্ছে। তার পরেও কিছু করার নেই। পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে বেশি দাম দিয়ে পোশাক কিনছি।’
রেলওয়ে মার্কেটের পোশাক ব্যবসায়ী কবির শেখ বলেন, ‘ঈদের বাজারে বিক্রি সন্তোষজনক। রমজানের শুরু থেকেই বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও শেষ সময়ে এসে বেচাকেনা আরও বেড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশি কাপড়ের তুলনায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি পাকিস্তানি লন এবং সাদা বাহারের ড্রেসগুলোর প্রতি। তবে নারী ও তরুণীদের আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাহারি ডিজাইনের ‘ফারসি’ ও ‘গারারা’।’
জুতা ব্যবসায়ী হাবিবুল শেখ বলেন, ‘এবার বাচ্চাদের ও উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের জুতা, স্যান্ডেল বেশি বিক্রি হচ্ছে।’
প্রসাধনী বিক্রেতা আমজাদ শেখ বলেন, ‘দোকানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্যান্ডের প্রসাধনী তুলেছি ঈদ উপলক্ষ্যে। পনের রোজার পর থেকে মোটামুটি কেনাবেচা চললেও শেষ সময়ে এসে মেহেদি, বিভিন্ন ডিজাইনের চুড়ি, গলার হার, কানের দুল, চুলে খোঁপা, লিপস্টিকসহ অন্যান্য প্রসাধনীর বিক্রি বেড়েছে।’
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঈদের আগে থেকেই খুলনার মার্কেটগুলোতে ছিনতাই বা বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারী রাখা হয়েছে।’