রাজবাড়ী: গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় এক আইসক্রিম বিক্রেতার হারিয়ে যাওয়া নগদ টাকা উদ্ধার করে দিয়েছে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে বরিশালের পলাশপুর এলাকার আইসক্রিম বিক্রেতা দুলাল আইসক্রিম বিক্রি করে জমানো ৮ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ঢাকাগামী সূর্যমুখী পরিবহণে উঠেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোয়ালন্দ মোড়ে নেমে যান। এরপর তিনি হোটেলে খাওয়া শেষে বিল দিতে গিয়ে দেখে লুঙ্গির ভেতরে কোমরে রাখা তার কষ্টে জমানো টাকাগুলো আর নেই।
তাৎক্ষণিকভাবে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, যে সূর্যমুখী পরিবহণে তিনি এসেছিলেন সেটি এরই মধ্যে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাট থেকে ভাষা সৈনিক ডা. গোলাম মাওলা নামের একটি ফেরিতে উঠে নদীর মাঝপথে চলে গেছে।
বিপাকে পড়ে দুলাল দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে থাকা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহাকে জানান। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে ওসি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তিনি বিআরটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সহযোগিতায় ফেরির মাস্টার মো. বাবলু সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন।
পরে ফেরির মাস্টার বাবলু সিকদার ফেরিতে থাকা সূর্যমুখী পরিবহণটি তল্লাশি করে হারিয়ে যাওয়া টাকাগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ফেরি লোড-আনলোড শেষে উদ্ধারকৃত টাকা নিয়ে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরি ঘাটের পন্টুনে থাকা নৌ পুলিশের কাছে এসে হস্তান্তর করেন।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে দুলাল ও তার সঙ্গীদের কাছে পুরো টাকাটি বুঝিয়ে দেয়। টাকা ফেরত পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন আইসক্রিম বিক্রেতা।
আবেগাপ্লুত দুলাল বলেন, ‘আমি আইসক্রিম বিক্রি করে খুব কষ্টে এই টাকা জমিয়েছিলাম। টাকা হারিয়ে আমি সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। টাকাগুলো ফিরে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত। যদি এই টাকা না পেতাম, তাহলে আমার সংসারের আর ঈদের আনন্দ থাকতো না। এখন আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ করতে পারব। আমি দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ।’
এ বিষয়ে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘একজন সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা উদ্ধার করতে পেরে আমরা খুবই সন্তুষ্ট। মানুষের পাশে দাঁড়ানোই পুলিশের মূল দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সেবাসহ সবধরনের সেবা অব্যাহত থাকবে।