Tuesday 17 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঈদযাত্রা: চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল

‎‎স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ মার্চ ২০২৬ ২৩:১২

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে।

চট্টগ্রাম: পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটছেন নগরবাসী। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

শুধু রেলস্টেশনই নয়, নগরীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারেও ক্রমেই বাড়ছে যাত্রীচাপ। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার এই যাত্রায় ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে শুরু করেছে নগরী।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত ৩ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৯ মার্চ পর্যন্ত ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলে। ১৩ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রীদের যাত্রা শুরু হয়েছে। যাত্রীসেবার কথা বিবেচনায় রেখে এবার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ভোগান্তি অনেকটা কমেছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রেলস্টেশন এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এবারও ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। টিকিট যাচাই শেষে যাত্রীদের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, ফলে স্টেশনে শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে।

চট্টগ্রামের কদমতলী আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারসহ গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় সকাল থেকেই বাস কাউন্টারগুলোতে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গরীবুল্লাহশাহ মাজারে দূরপাল্লার এসি বাস কাউন্টারগুলোতে আগেই ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়েছে। যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ে এসে নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার সারাবাংলাকে বলেন, ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক রয়েছে। ট্রেনের যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। বুধবার থেকে এ চাপ আরও বাড়বে। প্রতিটি ট্রেন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী স্টেশন ছাড়ছে। ফলে স্বস্তির সঙ্গে ট্রেনযাত্রা করছেন যাত্রীরা। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার সদস্যসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত স্টেশনে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী-আরএনবির চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের ইন্সপেক্টর আমান উল্লাহ আমান বলেন, যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য আরএনবি সজাগ রয়েছে। টিকিট দেখেই প্রবেশ করানো হচ্ছে। টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের বিরুদ্ধে আরএনবি কাজ করছে।

নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ী এলাকায় সাব্বির হোসেন পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সিলেট, তিনি বাসের চেয়ে ট্রেনকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, গ্রামে ঈদ করার আনন্দই আলাদা। তাই যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে আগেই বাড়ির পথে রওনা দিয়েছি। ঈদ উপলক্ষ্যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগেভাগেই গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি।

ঈদে প্রতিদিন আন্তঃজেলার ১২০০টি এসি ও নন–এসি গাড়ি ছাড়ছে। আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতির সচিব মনোয়ার হোসেন জানান, ১৬ মার্চ থেকে আন্তঃজেলা বাসের অগ্রিম টিকিটধারী যাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে ১২০০টি এসি ও নন–এসি বাস সারাদেশে চলাচল করবে। এসব বাসে ঈদে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর