গাইবান্ধা: জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজাহার ইউনিয়নে ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়েছে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম।
এর আগে রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবং সোমবার (১৬ মার্চ) রাতেও বেশ কিছু এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের সময় প্রবল বাতাসে অন্তত তিন শতাধিক বাড়িঘর ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। অনেক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গিয়ে দূরের আবাদি জমিতে পড়ে। এ ছাড়াও ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। কোথাও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, কোথাও আবার হেলে পড়েছে। ফলে রোববার রাত থেকেই ওই এলাকার কয়েকশ পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, রাতের ঝড়ে ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় তিন থেকে চার শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবারের থাকার ঘর না থাকায় তারা অস্থায়ীভাবে বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ওবায়দুল ইসলাম জানান, ঝড়ে তার ওয়ার্ডে অন্তত তিন শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘর ভেঙে গেছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন। যাদের থাকার জায়গা নেই তাদের জন্য দুটি বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।
ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বুলু মিয়া জানান, ঝড়ের সময় তার ওয়ার্ডের শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা স্কুল টেকনিক্যাল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণাধীন ইটের দেয়ালও ভেঙে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চালা, কাঠ ও বাঁশ ছিটকে পড়ে আছে জমিতে।
গোবিন্দগঞ্জ জোনের পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার রাশেদ আব্দুল্লাহ জানান, ঝড়ে রাজাহার ইউনিয়ন এলাকায় আমাদের দুটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং সাত থেকে আটটি খুঁটি হেলে পড়েছে। এতে ঝড়ের সময় থেকে তিন থেকে চার শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইনের দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি আমরা।
এ বিষয়ে একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাওয়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানাকে।
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা মোবাইল ফোনে বলেন, গতকাল রাতের ঝড়ে গোবিন্দগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউএনও। ক্ষতিগ্রস্ত ১৪২ টি পরিবারকে তাৎক্ষণিক ভাবে ৪ দশমিক ২৬০ মেট্রিকটন চাল এবং ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে, পরবর্তীতে তাদেরকে কৃষিসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।