যশোর: জেলা সদরে চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদরের সতিঘাটায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত অটোরিকশাচালকের আলমগীর হোসেন (৪০)। তিনি চাঁচড়া বড় মাদরাসা এলাকার মৃত রজব আলীর ছেলে। ঝুমঝুমপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার শেষে রিকশা নিয়ে বের হন আলমগীর। এর ঘন্টাখানেকের মধ্যে খবর পান সতীঘাটায় সড়কের পাশে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। দুবৃর্ত্তরা যাত্রী সেজে আলমগীরকে রিক্সাসহ সতিঘাটার নির্জন সড়কে নিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারের হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারের হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, রিকশাচালককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মাথায় ভারিবস্তু দ্বারা আঘাত করা হয়েছে। রিকশা মিসিং থাকায় প্রাথমিকভাবে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
সূত্রে জানা গেছে, যশোরে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের টার্গেট হয়ে উঠেছে ইজিবাইক-অটোরিকশা। তিন ও চার চাকার এসব যানবাহন ছিনতাই করতে চালককে হত্যা করতে তারা দ্বিধা করছেন না। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত যশোরে ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ইজিবাইক ও অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে। এছাড়া প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে।
ঋণে কেনা এসব যানবাহনের সঙ্গে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো। স্বজন হারানোর শোকের সঙ্গে এসব পরিবারগুলোকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে ঋণের বোঝাও। রিকশা-ইজিবাইক চালকেরা বলছেন, প্রতিটি যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে খুব সহজেই বিক্রি করা যায় বলেই ছিনতাইয়ে আগ্রহ বেশি এসব যানের। যশোরে প্রতিনিয়ত ইজিবাইক রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চালকরা চরম উদ্বিগ্ন।