Sunday 15 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

২০ বছর পর সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৫ মার্চ ২০২৬ ২১:৫২

কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টের সৈকত এলাকা থেকে নিজেদের দোকান ও স্থাপনা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার: প্রশাসনের হুঁশিয়ারির পর কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্টের সৈকত এলাকা থেকে নিজেদের দোকান ও স্থাপনা ভেঙে মালামাল সরিয়ে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে ওই এলাকার প্রায় পাঁচ শতাধিক স্থাপনা অপসারিত হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরের দিকে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাইকিং করে বালিয়াড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরপরই ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নিতে শুরু করেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ২০ বছর পর সুগন্ধা সৈকতের বালিয়াড়ি দখলমুক্ত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে জেলা প্রশাসন সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ির ওপর গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নিতে রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে দোকান সরিয়ে নেন।

সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী আরমান বলেন, ‘এখন আমাদের দোকান সরিয়ে নিতে হচ্ছে। রমজান মাস চলছে, সামনে ঈদ। কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ কী হবে তা শুধু আল্লাহই জানেন। সন্তানদের কী জবাব দেব বুঝতে পারছি না। গত এক মাস দোকান প্রায় বন্ধ থাকায় বিক্রি খুব কম হয়েছে। এখনো তাদের ঈদের পোশাকও কিনে দিতে পারিনি।’

ঝিনুক বিক্রেতা সাহেদ ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে আমরা নিজেরাই দোকান সরিয়েছি। কিন্তু কষ্টটা থেকেই গেছে। ঈদ সামনে রেখে ভালো ব্যবসার আশায় অনেকেই ঋণ নিয়ে দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছি। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেব, তা শুধু আল্লাহই জানেন।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, লাবণী ও কলাতলী পয়েন্টের সৈকতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধেও ধাপে ধাপে একই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মঞ্জু বিন আফনান বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা নিজেদের দায়িত্বেই এলাকা থেকে দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। দোকান ও মালামালের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সকালে তারা কিছু অতিরিক্ত সময় চান। সেই সময়ের মধ্যেই তারা দোকান সরিয়ে নেন।’

পুনর্বাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীরা তাদের অভিযোগ বা দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতে পারেন। সেগুলো বিবেচনা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ প্রথমে সৈকত দখলমুক্ত করবে। এরপর ধাপে ধাপে পুরো সৈকত এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত তিন দিনে কক্সবাজার সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে মোট প্রায় ৬৩০টি স্থাপনা সরানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর