কক্সবাজার: কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপকূলে ভেসে আসা একটি বিশাল আকৃতির মৃত তিমিকে সৈকতের বালিয়াড়িতে পুঁতে রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা আবার বালির উপরিভাগে উঠে এসেছে। জোয়ারের প্রভাব ও পচন ধরা গ্যাসে ফুলে ওঠা দেহের কারণে এমনটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৭ মার্চ) দিনে উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের অলি পাড়া সংলগ্ন সৈকতে বড় আকারের মৃত তিমিটি ভেসে আসে। বিরল এই সামুদ্রিক প্রাণীটি দেখতে সেখানে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। পরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ওই দিন রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে তিমিটির মরদেহ সৈকতের বালিয়াড়িতে পুঁতে ফেলা হয়।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, তিমিটির মরদেহ পর্যাপ্ত গভীরভাবে চাপা দেওয়া হয়নি। ফলে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে পচন প্রক্রিয়ায় দেহে গ্যাস তৈরি হয়ে মরদেহের একটি বড় অংশ বালির উপরিভাগ ভেদ করে আবারও উপরে উঠে আসে। বর্তমানে তিমিটির মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় সৈকত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা, স্থানীয় জেলে ও পথচারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেকে নাক-মুখে কাপড় বেঁধে চলাফেরা করছেন। অর্ধগলিত তিমির দেহ থেকে ঝরে পড়া রক্ত ও পুঁজ সাগরের পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে পরিবেশ দূষণ ও রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিমির মতো বড় সামুদ্রিক প্রাণীর মরদেহ অপসারণে নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। অল্প গভীরতায় পুঁতে রাখলে পচন প্রক্রিয়ায় গ্যাস তৈরি হয়ে মরদেহ আবার উপরে উঠে আসতে পারে। তাই এ ধরনের ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে গভীর গর্ত খনন বা অন্য উপযুক্ত পদ্ধতিতে মরদেহ অপসারণ করা প্রয়োজন।
দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, দুর্গন্ধের কারণে সেদিন দ্রুত এস্কেভেটরের সাহায্যে তিমিটিকে বালিয়াড়িতে পুঁতে ফেলা হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় যথাযথ পদ্ধতিতে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ মার্চ উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের মিয়ারাকাটা সংলগ্ন সৈকতে দানব আকৃতির ওই মৃত তিমিটি ভেসে আসে। খবর পেয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও সেদিন রাতে সেটিকে আবার সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।