বাগেরহাট: বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ শুক্রবার গভীর রাতে তাদের নিজ বাড়ি মোংলা উপজেলায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়। মরদেহগুলো বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
খুলনার কয়রার মিতুর বিয়ে হয়েছিল মোংলা সাব্বিরের সাথে। ঘর করবে, জীবন সাজাবে, তা আর হলো না। সড়কে বাস দুর্ঘটনায় কেড়ে নিল তার প্রাণ। বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে বাগেরহাটের রামপালে মাইক্রোবাস ও নৌবাহিনীর বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-নববধূসহ ১৪ জন নিহত হন।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহিনুর রহমান জানান, শুক্রবার গভীর রাতে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেগুলো মোংলার নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজ্জাক ও একটি শিশুর মরদেহ মোংলায় এসে পৌঁছায়। এরপর রাত সাড়ে তিনটায় আরও ৭ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়। মরদেহ পৌঁছানোর পর থেকে শোকের মাধ্যম চলছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রামপাল উপজেলার মোংলা–খুলনা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর–কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন।
সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, তার দুই ছেলে, এক মেয়ে, এক জামাই, চার নাতি , একজন ড্রাইভার নিহত হয়। এছাড়া নববধূ মিতু, তার দাদি, নানি ছোট বোন নিহত হন। হাসপাতালে এখনো একজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
মোংলা পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সভাপতির আবদুর রাজ্জাকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।